Hi

০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ নিয়ে শঙ্কিত রুনি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলেও, দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি। ম্যাচে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় পায় ইংলিশরা। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোল দলকে রক্ষা করলেও, রুনির দৃষ্টিতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসির লাইভ সম্প্রচারে ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে রুনি সরাসরি দলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ইংল্যান্ড যখন প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেয় বা বল হারায়, তখন মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। এই ভারসাম্যহীনতা বড় কোনো দলের বিপক্ষে খেললে ইংল্যান্ডের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রুনির ভাষায়, বল হারানোর পরবর্তী মুহূর্তগুলোতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ যেভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, তা আধুনিক ফুটবলে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট। সপ্তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধজুড়ে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে বারংবার বিপাকে পড়তে হয়েছে ইংলিশ ডিফেন্ডারদের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে অ্যান্থনি গর্ডন মাঠে নামার পর খেলার গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। গর্ডনের নিখুঁত পাস থেকে ৭৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন কেইন। এরপর ৮৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে জয় এনে দেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

রুনির এই দুশ্চিন্তার পেছনে রয়েছে পরবর্তী রাউন্ডগুলোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার পর, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রুনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে যেভাবে মাঝমাঠ ফাঁকা ছিল, তা যদি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘটে, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তা সামলাতে পারবে না।

সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের জয়টি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ হলেও দলীয় কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো প্রকট। হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে রক্ষা করলেও, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে কোচিং স্টাফকে অবশ্যই রক্ষণভাগের এই অগোছালো ভাব দূর করতে হবে। রুনির এই বিশ্লেষণ এখন ইংলিশ শিবিরে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে, কারণ সামনে অপেক্ষমাণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ভুল করার সুযোগ নেই বললেই চলে।

জনপ্রিয়

বেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে সেনেগালের দাপুটে জয়: রাউন্ড অব ৩২-এ ইতিহাস গড়ার পথে আফ্রিকানরা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় পেলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ নিয়ে শঙ্কিত রুনি

আপডেট : ০১:৪৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলেও, দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি। ম্যাচে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় পায় ইংলিশরা। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোল দলকে রক্ষা করলেও, রুনির দৃষ্টিতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসির লাইভ সম্প্রচারে ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে রুনি সরাসরি দলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ইংল্যান্ড যখন প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেয় বা বল হারায়, তখন মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। এই ভারসাম্যহীনতা বড় কোনো দলের বিপক্ষে খেললে ইংল্যান্ডের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রুনির ভাষায়, বল হারানোর পরবর্তী মুহূর্তগুলোতে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ যেভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, তা আধুনিক ফুটবলে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট। সপ্তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধজুড়ে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে বারংবার বিপাকে পড়তে হয়েছে ইংলিশ ডিফেন্ডারদের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে অ্যান্থনি গর্ডন মাঠে নামার পর খেলার গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। গর্ডনের নিখুঁত পাস থেকে ৭৫ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন কেইন। এরপর ৮৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে জয় এনে দেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

রুনির এই দুশ্চিন্তার পেছনে রয়েছে পরবর্তী রাউন্ডগুলোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার পর, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রুনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে যেভাবে মাঝমাঠ ফাঁকা ছিল, তা যদি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘটে, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তা সামলাতে পারবে না।

সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের জয়টি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ হলেও দলীয় কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো প্রকট। হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে রক্ষা করলেও, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে কোচিং স্টাফকে অবশ্যই রক্ষণভাগের এই অগোছালো ভাব দূর করতে হবে। রুনির এই বিশ্লেষণ এখন ইংলিশ শিবিরে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে, কারণ সামনে অপেক্ষমাণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ভুল করার সুযোগ নেই বললেই চলে।