Hi

১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান: বিপুল গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী। সম্প্রতি পানছড়ি উপজেলার ব্যাঙ্গাপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গোলাগুলির ঘটনার পর, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী সেখানে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই দুপুরে ব্যাঙ্গাপাড়া এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি সদর জোনের পানছড়ি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল পৌনে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলের ভেতরে সন্ত্রাসীদের একটি গোপন আস্তানা খুঁজে বের করেন সেনা সদস্যরা।

সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পিছু হটে এবং ঘন জঙ্গলের আড়ালে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আস্তানাটি তল্লাশি করে ৫২ রাউন্ড এফসিসি (FCC) গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। একইসাথে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী যেমন—রান্নার সরঞ্জাম, কলসি, বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, এলআরপি তাবুসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। সবশেষে, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসীরা যাতে আর কোনোভাবেই এই আস্তানা ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সেটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এ ধরনের জোরালো অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার জন্য সেনা উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

জনপ্রিয়

এইচএসসি পরীক্ষা: বৃষ্টি ও যানজটের বাধা পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর লড়াই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান: বিপুল গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম উদ্ধার

আপডেট : ০৮:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী। সম্প্রতি পানছড়ি উপজেলার ব্যাঙ্গাপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গোলাগুলির ঘটনার পর, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী সেখানে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই দুপুরে ব্যাঙ্গাপাড়া এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি সদর জোনের পানছড়ি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল পৌনে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলের ভেতরে সন্ত্রাসীদের একটি গোপন আস্তানা খুঁজে বের করেন সেনা সদস্যরা।

সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পিছু হটে এবং ঘন জঙ্গলের আড়ালে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আস্তানাটি তল্লাশি করে ৫২ রাউন্ড এফসিসি (FCC) গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। একইসাথে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী যেমন—রান্নার সরঞ্জাম, কলসি, বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, এলআরপি তাবুসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। সবশেষে, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসীরা যাতে আর কোনোভাবেই এই আস্তানা ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সেটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এ ধরনের জোরালো অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার জন্য সেনা উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।