Hi

১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই চাকরি খাচ্ছে? নতুন সমীক্ষায় পাল্টে গেল পুরনো ধারণা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থান নিয়ে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন যে ধারণা প্রচলিত ছিল যে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে, সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এই নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান উচ্চমাত্রায় এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে, সেখানে সামগ্রিকভাবে কর্মীর সংখ্যা ১০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থেকেও উল্লেখযোগ্য হলো, এই ধরনের সংস্থাগুলিতে এন্ট্রি-লেভেলের (নতুনদের জন্য) চাকরির সংখ্যা বেড়েছে ১২ শতাংশ, যা এআই জুনিয়র পদগুলি নষ্ট করে দেয় – এই প্রচলিত ধারণাটির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সাথে কর্মসংস্থানের উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশন নিয়ে আশঙ্কা ছিল যে, এটি লাখ লাখ মানুষের জীবিকা কেড়ে নেবে, বিশেষ করে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নিম্ন-দক্ষতার কাজগুলি। বিভিন্ন গবেষণা এবং ভবিষ্যদ্বাণী এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছিল যেখানে এআই মানুষের স্থান দখল করে নেবে, যার ফলে বেকারত্বের হার বাড়বে। তবে, এই নতুন প্রতিবেদনটি একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এআই কেবল কিছু কাজকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং নতুন সুযোগও তৈরি করছে এবং সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়াতেও সক্ষম।

প্রতিবেদনটি ‘উচ্চ-তীব্রতার এআই গ্রহণকারী’ (high-intensity AI adopters) সংস্থাগুলির উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেছে। এই সংস্থাগুলি কেবল এআই টুলস ব্যবহার করে না, বরং তাদের মূল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তে এআইকে গভীরভাবে একীভূত করেছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য ও পরিষেবা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্প্রসারণ এবং বৃদ্ধির ফলেই তাদের কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী ধারণাগুলিকে ভুল প্রমাণ করেছে।

বিশেষত, এন্ট্রি-লেভেলের পদগুলিতে ১২ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্ত প্রাথমিক কাজগুলি কেড়ে নিচ্ছে না। বরং, অনেক ক্ষেত্রে এআই মানুষের কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করে তুলছে, যার ফলে নতুনদের জন্য আরও জটিল এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এআই ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহক পরিষেবা বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট অংশকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, কিন্তু এর জন্য ডেটা লেবেলিং, এআই সিস্টেম তত্ত্বাবধান, ফলাফল ব্যাখ্যা করা এবং গ্রাহকদের সাথে আরও ব্যক্তিগতকৃত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মানুষের প্রয়োজন হয়। এই নতুন ধরনের কাজগুলির অনেক ক্ষেত্রেই এন্ট্রি-লেভেলের কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি দেখায় যে এআইকে শুধুমাত্র একটি ‘চাকরি-খেকো’ প্রযুক্তি হিসেবে না দেখে, বরং একটি ‘চাকরি-সৃষ্টিকারী’ এবং ‘উৎপাদনশীলতা-বর্ধক’ শক্তি হিসেবে দেখা উচিত। তবে, এর জন্য কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের কাজের বাজারের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এআই চালিত পরিবেশে সফল হতে হলে কর্মীদের মধ্যে অভিযোজন ক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার মতো গুণাবলী অপরিহার্য হয়ে উঠবে।

এই সমীক্ষার ফলাফল নীতি-নির্ধারক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি নতুন চিন্তাভাবনার খোরাক যোগাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এআই কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি না হয়ে বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন সুযোগ তৈরির একটি শক্তিশালী অনুঘটক হতে পারে। তবে, এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে কর্মীবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। এটি এআই যুগে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি আরও আশাবাদী এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

জনপ্রিয়

সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীকে এলোপাতাড়ি গুলি: সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ, একজন আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই চাকরি খাচ্ছে? নতুন সমীক্ষায় পাল্টে গেল পুরনো ধারণা

আপডেট : ০১:০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থান নিয়ে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন যে ধারণা প্রচলিত ছিল যে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে, সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এই নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান উচ্চমাত্রায় এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে, সেখানে সামগ্রিকভাবে কর্মীর সংখ্যা ১০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থেকেও উল্লেখযোগ্য হলো, এই ধরনের সংস্থাগুলিতে এন্ট্রি-লেভেলের (নতুনদের জন্য) চাকরির সংখ্যা বেড়েছে ১২ শতাংশ, যা এআই জুনিয়র পদগুলি নষ্ট করে দেয় – এই প্রচলিত ধারণাটির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সাথে কর্মসংস্থানের উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশন নিয়ে আশঙ্কা ছিল যে, এটি লাখ লাখ মানুষের জীবিকা কেড়ে নেবে, বিশেষ করে পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নিম্ন-দক্ষতার কাজগুলি। বিভিন্ন গবেষণা এবং ভবিষ্যদ্বাণী এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছিল যেখানে এআই মানুষের স্থান দখল করে নেবে, যার ফলে বেকারত্বের হার বাড়বে। তবে, এই নতুন প্রতিবেদনটি একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এআই কেবল কিছু কাজকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং নতুন সুযোগও তৈরি করছে এবং সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়াতেও সক্ষম।

প্রতিবেদনটি ‘উচ্চ-তীব্রতার এআই গ্রহণকারী’ (high-intensity AI adopters) সংস্থাগুলির উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেছে। এই সংস্থাগুলি কেবল এআই টুলস ব্যবহার করে না, বরং তাদের মূল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তে এআইকে গভীরভাবে একীভূত করেছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য ও পরিষেবা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্প্রসারণ এবং বৃদ্ধির ফলেই তাদের কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী ধারণাগুলিকে ভুল প্রমাণ করেছে।

বিশেষত, এন্ট্রি-লেভেলের পদগুলিতে ১২ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্ত প্রাথমিক কাজগুলি কেড়ে নিচ্ছে না। বরং, অনেক ক্ষেত্রে এআই মানুষের কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করে তুলছে, যার ফলে নতুনদের জন্য আরও জটিল এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এআই ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহক পরিষেবা বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট অংশকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, কিন্তু এর জন্য ডেটা লেবেলিং, এআই সিস্টেম তত্ত্বাবধান, ফলাফল ব্যাখ্যা করা এবং গ্রাহকদের সাথে আরও ব্যক্তিগতকৃত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মানুষের প্রয়োজন হয়। এই নতুন ধরনের কাজগুলির অনেক ক্ষেত্রেই এন্ট্রি-লেভেলের কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি দেখায় যে এআইকে শুধুমাত্র একটি ‘চাকরি-খেকো’ প্রযুক্তি হিসেবে না দেখে, বরং একটি ‘চাকরি-সৃষ্টিকারী’ এবং ‘উৎপাদনশীলতা-বর্ধক’ শক্তি হিসেবে দেখা উচিত। তবে, এর জন্য কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের কাজের বাজারের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এআই চালিত পরিবেশে সফল হতে হলে কর্মীদের মধ্যে অভিযোজন ক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার মতো গুণাবলী অপরিহার্য হয়ে উঠবে।

এই সমীক্ষার ফলাফল নীতি-নির্ধারক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি নতুন চিন্তাভাবনার খোরাক যোগাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক কৌশল এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এআই কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি না হয়ে বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন সুযোগ তৈরির একটি শক্তিশালী অনুঘটক হতে পারে। তবে, এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে কর্মীবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। এটি এআই যুগে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি আরও আশাবাদী এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।