নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা নঈম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছায়। শোকজপ্রাপ্তদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজের জবাব আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যারা কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েছেন, তাদের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা বিস্তারিত বলতে নারাজ।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৬ সেপ্টেম্বর। ওইদিন অফিস চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই হাসপাতালের হলরুমে এক গোপন সভার আয়োজন করেন। শোকজ নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এই সভাটি ছিল রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কনফারেন্স রুম দখল, সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, চেইন অব কমান্ড বিনষ্ট করা এবং দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে এই শোকজের ঘটনা ঘটে।
শোকজ পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় ১১ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। তারা হলেন—ডা. পার্থ সরকার, ডা. জান্নাতুল নেছা, ডা. মো. সায়েম, ডা. রাকিবুল ইসলাম, ডা. মো. অন্তিম হাসান, ডা. জয়া রানী দেবনাথ, ডা. মৌমিতা দাস, ডা. লিজা সরকার, ডা. পার্থ প্রতিম সেন, ডা. সৌরভ আহমেদ শাকিল ও ডা. মেহেদী হাসান পিয়াস। এছাড়া ৯ জন নার্স এবং অন্যান্য পদের ১০ জনসহ মোট ৩০ জনকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নার্সদের তালিকায় রয়েছেন রেহেনা আক্তার খানম, মনি আক্তার, রীনা রাণী পাল, মনিরা আক্তার, সাবিকুন্নাহার, হিমা আক্তার, উম্মে হাবিবা সরকার, নূরে ফারজানা ও জান্নাতুল ফেরদৌস। অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলাম ও রেজুয়ান করিম রাজু, ফার্মাসিস্ট বাহারুল্লাহ, হিসাব রক্ষক শামছুল হুদা, চারজন স্যাকমো—শহীদুর রহমান, বিপ্লব হোসেন, শাহজাহান সিরাজ ও আলমগীর হোসেন, সিএইচসিপি মুশফিকুর রহমান বকুল এবং অফিস সহায়ক মো. মুকুল। অন্যান্য: মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) নাজমুল ইসলাম, এমটি ল্যাব রেজুয়ান করিম রাজু, ফার্মাসিস্ট বাহারুল্লাহ, হিসাব রক্ষক শামছুল হুদা, ৪ জন স্যাকমো- শহীদুর রহমান, বিপ্লব হোসেন, শাহজাহান সিরাজ, আলমগীর হোসেন, সিএইচসিপি মুশফিকুর রহমান বকুল ও অফিস সহায়ক মো. মুকুল।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই নোটিশের মাধ্যমে কার কী উদ্দেশ্য ছিল এবং গোপন সভার নেপথ্যে আসলে কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে। অভিযুক্তদের একাধিক ব্যক্তি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেবেন।
এদিকে, হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম নিয়ে রোগীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে। সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে তারা নানামুখী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাসেল নামে এক রোগী জানান, টিকিট কাউন্টারে লাইন না মেনে অনেকে প্রভাব খাটিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এছাড়া চিকিৎসকরা প্রতিটি সমস্যার জন্য অসংখ্য ওষুধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ পাওয়া যায় না। তারা ডাক্তার এবং রোগীর চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
শামীমা আক্তার নামে আরেক রোগী জানান, হাসপাতালে আধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষা বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে করতে হয় এবং নির্দিষ্ট ক্লিনিক ছাড়া পরীক্ষা না করার ব্যাপারে চাপ থাকে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ওয়ার্ড ও ওয়াশরুমগুলো নিয়মিত দুর্গন্ধে ভরে থাকে। অপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়ে চিকিৎসা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে রোগীরা ডাক্তারের কাছে খোলামেলা কথা বলতে সংকোচ বোধ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী দেখার সময় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের একটা মিলন মেলা জমে।
রিপোর্টার নাম: 
























