চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চিনকী আস্তানা রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) কর্তৃক পরিচালিত সাধারণ পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনকালে রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
এর আগে মিরসরাইয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকা এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরে গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে এবং ৪ সেপ্টেম্বর প্রিন্ট সংস্করণে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ২০ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রেলওয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের দল চিনকী আস্তানা স্টেশন পরিদর্শনে আসে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম-চিনকী আস্তানা সেকশনে সরকারি রেল পরিদর্শকের সাধারণ পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
স্টেশন পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন-১ অধিশাখা), উপ-সচিব (প্রশাসন-৫ শাখা), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও সহকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় রেল কর্মকর্তাদের কাছে স্থানীয়রা তাদের দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা এই দাবিটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় স্থানীয়দের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং তারা দ্রুত এর বাস্তবায়ন চান।
মিরসরাই উপজেলার ওপর দিয়ে কুমিরা–ফেনীর প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের একটি বড় অংশ চলে গেছে। এই উপজেলায় চিনকী আস্তানা, নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিরসরাই ও মস্তাননগর নামে পাঁচটি রেলস্টেশন রয়েছে। তবে একমাত্র চিনকী আস্তানা স্টেশনটি চালু থাকলেও বাকি কয়েকটি স্টেশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। সচল থাকা চিনকী আস্তানা স্টেশনে বর্তমানে কেবল লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে, কিন্তু কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না।
স্থানীয়রা জানান, মিরসরাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের পরিধি দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। খৈয়াছড়া, রূপসী, সহস্রধারা ঝর্ণা, মহামায়া লেক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কের মতো আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক আসছেন। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একটি দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে মিরসরাই অর্থনৈতিক ও পর্যটন—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় এখানকার যাত্রীদের ট্রেনে যাতায়াত করতে চট্টগ্রাম কিংবা ফেনী গিয়ে চড়তে হয়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। চিনকী আস্তানা স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হলে মিরসরাইয়ের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও সহজে আধুনিক রেলসেবার সুবিধা পাবেন। তাই স্থানীয় জনগণের জোরালো দাবি, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাহিদা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হোক এবং বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
রিপোর্টার নাম: 

























