Hi

০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীঘ্রই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি: তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলছে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় শিগগিরই সংগঠনটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবারের কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ং যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। সম্প্রতি ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি ও ছাত্রদলের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। এ সাক্ষাৎটিকে সাংগঠনিক নিয়মে বিদায়ী বৈঠক হিসেবে গণ্য করা হলেও সেখানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং কারা ছাত্রদলের হাল ধরবেন, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিশীলতা রক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। তারেক রহমান নিজেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন, যার ফলে বিগত বছরগুলোর মতো পকেট কমিটি বা তথাকথিত কোনো নেতার ‘সিন্ডিকেট’ প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে না বললেই চলে।

এবারের কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকার মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে যারা জেল-জুলুম, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন, তারা এবারের কমিটিতে প্রাধান্য পাবেন। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা এমন বহু যোগ্য প্রার্থী থাকায় এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নীতি-নির্ধারকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওনের নামও শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার কয়েকটি বিষয়কে মূল মানদণ্ড ধরা হচ্ছে। প্রার্থীর শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক পরিচয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা সংকটকালে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন এবং কোনো বিতর্ক বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, রাজপথে পরীক্ষিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতারাই নতুন কমিটিতে জায়গা পাবেন, যা ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করবে।

জনপ্রিয়

ইতালিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ দাফন: এলাকায় শোকের ছায়া

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শীঘ্রই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি: তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলছে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই

আপডেট : ১২:০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘ দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় শিগগিরই সংগঠনটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবারের কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ং যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। সম্প্রতি ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি ও ছাত্রদলের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ছাত্রদলের বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। এ সাক্ষাৎটিকে সাংগঠনিক নিয়মে বিদায়ী বৈঠক হিসেবে গণ্য করা হলেও সেখানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং কারা ছাত্রদলের হাল ধরবেন, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ গতিশীলতা রক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়। তারেক রহমান নিজেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন, যার ফলে বিগত বছরগুলোর মতো পকেট কমিটি বা তথাকথিত কোনো নেতার ‘সিন্ডিকেট’ প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে না বললেই চলে।

এবারের কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকার মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে যারা জেল-জুলুম, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন, তারা এবারের কমিটিতে প্রাধান্য পাবেন। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা এমন বহু যোগ্য প্রার্থী থাকায় এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নীতি-নির্ধারকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শাওনের নামও শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার কয়েকটি বিষয়কে মূল মানদণ্ড ধরা হচ্ছে। প্রার্থীর শিক্ষাজীবন, একাডেমিক ফলাফল, পারিবারিক পরিচয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা সংকটকালে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন এবং কোনো বিতর্ক বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নন, তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, রাজপথে পরীক্ষিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতারাই নতুন কমিটিতে জায়গা পাবেন, যা ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করবে।