Hi

০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা পাঠাল দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে তার অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভারত। প্রায় পাঁচ মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত জটিল ইস্যুটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে বাধা হতে দিতে চায় না দিল্লি। বরং এই বিতর্কিত বিষয়টি এড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী। এমনকি তারেক রহমানের ভারত সফর যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেজন্য ‘অভাবনীয়’ কিছু কূটনৈতিক উপহারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতের রাজ্যসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইতিবাচক কাজ চলছে। আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রেল, সড়ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ভারত। মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ভারত এখন তৎপর। কূটনীতিকদের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া, তাই একে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দেরি করা সমীচীন নয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সফরটি সম্পন্ন হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হবে। কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে হাইকমিশনারের একান্ত আলোচনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এরপরই দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে উচ্চপর্যায়ে বাংলাদেশের মনোভাব তুলে ধরেন এবং সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফর। দুই দিনের এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আলোচনার কথা রয়েছে। যদিও সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো কাজ চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রাজনৈতিক পযর্বেক্ষক মহলের মতে, ভারতের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ড.

ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।

ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।

হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া মনোভাবের মুখে পড়েছে ভারত।

এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।

এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা পাঠাল দিল্লি

আপডেট : ০২:৪৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে তার অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ভারত। প্রায় পাঁচ মাস আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত জটিল ইস্যুটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে বাধা হতে দিতে চায় না দিল্লি। বরং এই বিতর্কিত বিষয়টি এড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী। এমনকি তারেক রহমানের ভারত সফর যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেজন্য ‘অভাবনীয়’ কিছু কূটনৈতিক উপহারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে ইঙ্গিত মিলেছে।

ভারতের রাজ্যসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইতিবাচক কাজ চলছে। আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রেল, সড়ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ভারত। মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ভারত এখন তৎপর। কূটনীতিকদের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া, তাই একে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দেরি করা সমীচীন নয়।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সফরটি সম্পন্ন হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হবে। কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে হাইকমিশনারের একান্ত আলোচনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এরপরই দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে উচ্চপর্যায়ে বাংলাদেশের মনোভাব তুলে ধরেন এবং সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম ভারত সফর। দুই দিনের এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আলোচনার কথা রয়েছে। যদিও সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো কাজ চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রাজনৈতিক পযর্বেক্ষক মহলের মতে, ভারতের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ড.

ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।

ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।

হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া মনোভাবের মুখে পড়েছে ভারত।

এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।

এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।