Hi

০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে প্রবেশে ব্যর্থতায় শীর্ষে বাংলাদেশি নাগরিকরা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪ জন দেখেছে

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে ভুয়া ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (এমসিবিএ)। সংস্থাটি নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য আগস্টের এক ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ২২৯ জন বিদেশি দর্শনার্থীকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাসের ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) ১ ও ২ নম্বর টার্মিনালে মোট ৭৬৪ জন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার সময় প্রবেশের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ২২৯ জনকে আটকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি—২০৪ জন। বাকিদের মধ্যে ভারতের ১৪ জন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন করে এবং কম্বোডিয়ার ২ জন নাগরিক রয়েছেন। আগস্ট মাসের শুধুমাত্র ১২ তারিখের আগের ২৪ ঘন্টার অভিযানে শুধু ২০৪ জন বাংলাদেশিকেই আটক করে সংস্থাটি৤ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে থেকে শুরু হওয়া পরদিন সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা অভিযানের সময় সংস্থাটি কেএলআইএ টার্মিনাল ১।

এমসিবিএর ভাষ্যমতে, আটক হওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে তিনটি ফ্লাইটে কেএলআইএ ১ টার্মিনালে পৌঁছান। ভুয়া হোটেল বুকিংয়ের কাগজ উপস্থাপন, ফেরার বিমানের টিকিট না থাকা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এদের অনেকেই পর্যটক ভিসার আড়ালে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় স্থায়ী হওয়া বা কাজ করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।

এই ধরনের অনিয়ম রোধে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে এমসিবিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও নথি জালিয়াতির সাথে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে মালয়েশিয়ায় নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৫ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার এবং কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে আরও ৭৭০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে মালয়েশিয়া সরকার তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।

এদিকে, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলাপচারিতায় এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে উঠে আসছে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদানের পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থান ও অধিকার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি চালানো হচ্ছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে প্রবেশে ব্যর্থতায় শীর্ষে বাংলাদেশি নাগরিকরা

আপডেট : ১০:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে ভুয়া ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (এমসিবিএ)। সংস্থাটি নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য আগস্টের এক ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ২২৯ জন বিদেশি দর্শনার্থীকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাসের ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) ১ ও ২ নম্বর টার্মিনালে মোট ৭৬৪ জন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার সময় প্রবেশের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ২২৯ জনকে আটকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি—২০৪ জন। বাকিদের মধ্যে ভারতের ১৪ জন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ৩ জন করে এবং কম্বোডিয়ার ২ জন নাগরিক রয়েছেন। আগস্ট মাসের শুধুমাত্র ১২ তারিখের আগের ২৪ ঘন্টার অভিযানে শুধু ২০৪ জন বাংলাদেশিকেই আটক করে সংস্থাটি৤ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে থেকে শুরু হওয়া পরদিন সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলা অভিযানের সময় সংস্থাটি কেএলআইএ টার্মিনাল ১।

এমসিবিএর ভাষ্যমতে, আটক হওয়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে তিনটি ফ্লাইটে কেএলআইএ ১ টার্মিনালে পৌঁছান। ভুয়া হোটেল বুকিংয়ের কাগজ উপস্থাপন, ফেরার বিমানের টিকিট না থাকা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এদের অনেকেই পর্যটক ভিসার আড়ালে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় স্থায়ী হওয়া বা কাজ করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।

এই ধরনের অনিয়ম রোধে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে এমসিবিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও নথি জালিয়াতির সাথে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে মালয়েশিয়ায় নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৫ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার এবং কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে আরও ৭৭০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদেশিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে মালয়েশিয়া সরকার তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।

এদিকে, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলাপচারিতায় এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে উঠে আসছে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদানের পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থান ও অধিকার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি চালানো হচ্ছে।