Hi

০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন: ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমান খসড়া শক্তিশালী হলেও আরও সংস্কারের দাবি

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি ২০০৯ সালের তৎকালীন আইনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং মানবাধিকার সুরক্ষার টেকসই কাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য: মানবাধিকার সুরক্ষায় টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, দেশে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচারকদের স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে তদন্তের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, অভিযোগের তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয় তা সাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে তা বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান খসড়াটি ২০০৯ সালের আইনের চেয়ে শক্তিশালী হলেও আরও নিখুঁত হওয়া জরুরি ছিল।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ডেপুটি রেসিডেন্ট প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত স্বাধীনতার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন, বাজেট বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে আইন পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স দিপেক এলমার তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ মানবাধিকার কমিশন কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অন্যান্য বক্তারাও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব রোধে কার্যকর নিয়োগ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান।

জনপ্রিয়

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন: ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমান খসড়া শক্তিশালী হলেও আরও সংস্কারের দাবি

আপডেট : ০১:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি ২০০৯ সালের তৎকালীন আইনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং মানবাধিকার সুরক্ষার টেকসই কাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য: মানবাধিকার সুরক্ষায় টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, দেশে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচারকদের স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে তদন্তের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, অভিযোগের তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয় তা সাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে তা বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান খসড়াটি ২০০৯ সালের আইনের চেয়ে শক্তিশালী হলেও আরও নিখুঁত হওয়া জরুরি ছিল।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ডেপুটি রেসিডেন্ট প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত স্বাধীনতার ওপর জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন, বাজেট বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে আইন পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স দিপেক এলমার তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ মানবাধিকার কমিশন কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অন্যান্য বক্তারাও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব রোধে কার্যকর নিয়োগ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান।