Hi

০১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষী বাবাকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা: মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক অসহায় শতবর্ষী বৃদ্ধের স্বজনরা। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ এবং প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন মফিজ উদ্দিন নামের ওই বৃদ্ধকে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যান। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনজনদের এমন নিষ্ঠুর আচরণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন একাকীত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসার পেতেছেন। অভিযোগ রয়েছে, জীবনের শেষ সম্বলটুকু মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার পরই তার কপালে নেমে আসে চরম দুর্দিন। বড় ছেলের বাড়িতে বসবাসরত অবস্থায় নাতনি ও তার স্বামী বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে তাকে জনশূন্য রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যান।

দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় পড়ে থাকা ওই বৃদ্ধের কান্নায় স্থানীয়দের হৃদয় বিদীর্ণ হয়। পরবর্তীতে খবরটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। প্রতিমন্ত্রী শুধু উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া চরম অমানবিক। বাবা-মা আমাদের আশীর্বাদ, তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও জানান, বৃদ্ধের প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন এবং যারা এই অমানবিক কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন তার মেয়ের হেফাজতে সুস্থ আছেন। এদিকে, পুলিশ নাতনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এবং তার স্বামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রটিই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

ন্যায়বিচারের বাতিঘর: সোনিয়া সোতোমেয়রের অদম্য জীবন ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস গড়ার গল্প

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শতবর্ষী বাবাকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা: মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আপডেট : ১১:০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক অসহায় শতবর্ষী বৃদ্ধের স্বজনরা। বার্ধক্যের ভারে ন্যুব্জ এবং প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন মফিজ উদ্দিন নামের ওই বৃদ্ধকে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যান। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনজনদের এমন নিষ্ঠুর আচরণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন একাকীত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসার পেতেছেন। অভিযোগ রয়েছে, জীবনের শেষ সম্বলটুকু মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার পরই তার কপালে নেমে আসে চরম দুর্দিন। বড় ছেলের বাড়িতে বসবাসরত অবস্থায় নাতনি ও তার স্বামী বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে তাকে জনশূন্য রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যান।

দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় পড়ে থাকা ওই বৃদ্ধের কান্নায় স্থানীয়দের হৃদয় বিদীর্ণ হয়। পরবর্তীতে খবরটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়। প্রতিমন্ত্রী শুধু উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া চরম অমানবিক। বাবা-মা আমাদের আশীর্বাদ, তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি আরও জানান, বৃদ্ধের প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন এবং যারা এই অমানবিক কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন তার মেয়ের হেফাজতে সুস্থ আছেন। এদিকে, পুলিশ নাতনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এবং তার স্বামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রটিই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।