Hi

০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পাইওয়্যার তদন্তকারী ইউরোপীয় রাজনীতিবিদের ফোনে পেগাসাসের হানা: প্রযুক্তির অপব্যবহারের নতুন বিতর্ক

সাইবার নিরাপত্তার দুনিয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কমিটির সদস্য, যিনি মূলত স্পাইওয়্যার শিল্পের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করছিলেন, নিজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এনএসও গ্রুপের তৈরি কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ওই রাজনীতিবিদের স্মার্টফোন হ্যাক করা হয়েছিল। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নজরদারি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পেগাসাস স্পাইওয়্যার মূলত ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ তৈরি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই সফটওয়্যারটি কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই শক্তিশালী প্রযুক্তিটি প্রায়শই সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ওই ইউরোপীয় রাজনীতিক সেই সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি বিশেষ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, যাদের মূল কাজ ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্পাইওয়্যারের ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা। তদন্তকারী নিজেই যখন তদন্তাধীন প্রযুক্তির আক্রমণের শিকার হন, তখন তা বিশ্বজুড়ে নজরদারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দেয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পেগাসাসের মতো স্পাইওয়্যার ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কল, মেসেজ, ক্যামেরা এমনকি লোকেশন ট্র্যাকিং করাও সম্ভব। এই প্রযুক্তিটি যে কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য কতটা হুমকি হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় প্রমাণ। যদিও এনএসও গ্রুপ বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে, তবুও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারা এখন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্পাইওয়্যার কেনাবেচায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি তুলেছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কোনো দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, সাইবার জগত এখন আর নিরাপদ নয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আড়ালে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এই প্রবণতা বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

জনপ্রিয়

জুমার দুই খুতবার মাঝে খতিব কেন বসেন? ইসলামি বিধান ও তাৎপর্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

স্পাইওয়্যার তদন্তকারী ইউরোপীয় রাজনীতিবিদের ফোনে পেগাসাসের হানা: প্রযুক্তির অপব্যবহারের নতুন বিতর্ক

আপডেট : ১১:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সাইবার নিরাপত্তার দুনিয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে বিতর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি কমিটির সদস্য, যিনি মূলত স্পাইওয়্যার শিল্পের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করছিলেন, নিজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এনএসও গ্রুপের তৈরি কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ওই রাজনীতিবিদের স্মার্টফোন হ্যাক করা হয়েছিল। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নজরদারি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পেগাসাস স্পাইওয়্যার মূলত ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ তৈরি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই সফটওয়্যারটি কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই শক্তিশালী প্রযুক্তিটি প্রায়শই সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ওই ইউরোপীয় রাজনীতিক সেই সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি বিশেষ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, যাদের মূল কাজ ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্পাইওয়্যারের ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা। তদন্তকারী নিজেই যখন তদন্তাধীন প্রযুক্তির আক্রমণের শিকার হন, তখন তা বিশ্বজুড়ে নজরদারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দেয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পেগাসাসের মতো স্পাইওয়্যার ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কল, মেসেজ, ক্যামেরা এমনকি লোকেশন ট্র্যাকিং করাও সম্ভব। এই প্রযুক্তিটি যে কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য কতটা হুমকি হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় প্রমাণ। যদিও এনএসও গ্রুপ বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে, তবুও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারা এখন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্পাইওয়্যার কেনাবেচায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি তুলেছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কোনো দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, সাইবার জগত এখন আর নিরাপদ নয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আড়ালে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এই প্রবণতা বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।