নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলী আহমেদ দুলু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। আলী আহমেদের এই রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ঘোষণাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলী আহমেদ তার রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে দাবি করেন, তিনি মূলত ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আশির দশকে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবেই তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল করেই আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাকে টিকে থাকতে হয়েছে। মূলত পরিস্থিতির চাপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, আদর্শগতভাবে আমি সবসময় বিএনপির সঙ্গেই ছিলাম।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
তবে আলী আহমেদের এই যোগদানের ঘোষণাকে ঘিরে খোদ বিএনপি নেতাদের মধ্যেই অস্বস্তি ও ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বিষয়টি নিয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বলেন, ‘আলী আহমেদ আমার সাথে দেখা করে আগ্রহের কথা জানালে আমি তাকে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি যেভাবে আমার নাম ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের দলে কি কর্মী সংকট রয়েছে যে আওয়ামী লীগ থেকে লোক নিতে হবে?’
রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘একজন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দলের অনুমতি ছাড়াই বিএনপির নাম ব্যবহার করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। স্থানীয় সংসদ সদস্য বা দলের অন্য কোনো দায়িত্বশীল নেতা এই যোগদানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। এভাবে হুট করে বিএনপির মতো একটি বড় দলে যোগদান গ্রহণযোগ্য নয়।’ উল্লেখ্য যে, দেশে বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আলী আহমেদের এই বিতর্কিত যোগদানের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 





















