Hi

০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন যুদ্ধ: হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে স্পর্শ করছে সংঘাত

ইউক্রেনে চলমান পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত মানব ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে মোট হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ’-এর হতাহতের পরিসংখ্যানের সাথে বর্তমান এই যুদ্ধের ভয়াবহতার তুলনা করা হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রায় ১৪ লাখ সেনাসদস্য এই যুদ্ধে হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এই পরিসংখ্যানটি বিস্ময়কর, কারণ এটি সোভিয়েত আমলসহ রাশিয়ার ইতিহাসে যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে রাশিয়ার দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো থেকে আসা পুরুষদের মধ্যে প্রাণহানির হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। গবেষক সেথ জি. জোন্স ও রাইলি ম্যাকক্যাবের মতে, রাশিয়া বর্তমানে যে হারে সেনা হারাচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন সদস্য নিয়োগের সক্ষমতা তাদের নেই। ফলে দেশটির জনমিতিক ও সামরিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজারের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়েছে, যার মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের কোঠায়। যুদ্ধের প্রথমার্ধে হতাহতের অনুপাত তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ থাকলেও, চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির হার বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি একজন ইউক্রেনীয় সেনার বিপরীতে প্রায় আটজন রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে ইউক্রেনের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তাদের কৌশলগত ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ বা স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কেবল প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই দায়ী নয়, বরং রুশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নানা সংকটও প্রকট। সমন্বিত সামরিক অভিযানের অভাব, দুর্বল প্রশিক্ষণ, দুর্নীতির বিস্তার এবং সেনাদের মনোবল কমে যাওয়া রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদিও রাশিয়া বা ইউক্রেন কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে সিএসআইএসের এই প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের আগের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের সীমানা নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং এটি আধুনিক সামরিক কৌশলের এক ভয়াবহ বিবর্তন, যা বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করছে।

জনপ্রিয়

বান্দরবানের রেতলাংয়ে কেএনএ ও ইউপিডিএফের গোপন আস্তানায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইউক্রেন যুদ্ধ: হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতাকে স্পর্শ করছে সংঘাত

আপডেট : ০৯:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনে চলমান পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত মানব ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে মোট হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ’-এর হতাহতের পরিসংখ্যানের সাথে বর্তমান এই যুদ্ধের ভয়াবহতার তুলনা করা হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রায় ১৪ লাখ সেনাসদস্য এই যুদ্ধে হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এই পরিসংখ্যানটি বিস্ময়কর, কারণ এটি সোভিয়েত আমলসহ রাশিয়ার ইতিহাসে যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে রাশিয়ার দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো থেকে আসা পুরুষদের মধ্যে প্রাণহানির হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। গবেষক সেথ জি. জোন্স ও রাইলি ম্যাকক্যাবের মতে, রাশিয়া বর্তমানে যে হারে সেনা হারাচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন সদস্য নিয়োগের সক্ষমতা তাদের নেই। ফলে দেশটির জনমিতিক ও সামরিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজারের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়েছে, যার মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের কোঠায়। যুদ্ধের প্রথমার্ধে হতাহতের অনুপাত তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ থাকলেও, চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির হার বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি একজন ইউক্রেনীয় সেনার বিপরীতে প্রায় আটজন রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে ইউক্রেনের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তাদের কৌশলগত ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ বা স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পেছনে কেবল প্রতিপক্ষের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষই দায়ী নয়, বরং রুশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নানা সংকটও প্রকট। সমন্বিত সামরিক অভিযানের অভাব, দুর্বল প্রশিক্ষণ, দুর্নীতির বিস্তার এবং সেনাদের মনোবল কমে যাওয়া রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদিও রাশিয়া বা ইউক্রেন কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে সিএসআইএসের এই প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের আগের পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই যুদ্ধ কেবল দুটি দেশের সীমানা নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং এটি আধুনিক সামরিক কৌশলের এক ভয়াবহ বিবর্তন, যা বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করছে।