Hi

০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ সদস্য ও সোর্স

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ জন দেখেছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার অন্তর্গত জামতলা ধোপাপট্রি এলাকায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্যসহ চারজন। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই খাইরুল বাশার ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকা দুই সোর্সকেও স্থানীয়রা মারধর করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয়ভাবে ‘আইনজীবীর বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা ইউনিফর্ম ছাড়াই ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। অভিযানের সময় কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আলমারির ড্রয়ার থেকে একটি স্বর্ণের চেইন চুরি করেছেন বলে বাড়ির লোকজন দাবি করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর বাড়ির সদস্যরা তাদের কাছে যথাযথ পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই চারজনকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধোপাপট্রি এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি নিজেরাই এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল পাঠিয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও সোর্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক ও সদস্যদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নারায়ণগঞ্জে সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ সদস্য ও সোর্স

আপডেট : ১১:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার অন্তর্গত জামতলা ধোপাপট্রি এলাকায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্যসহ চারজন। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই খাইরুল বাশার ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকা দুই সোর্সকেও স্থানীয়রা মারধর করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয়ভাবে ‘আইনজীবীর বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা ইউনিফর্ম ছাড়াই ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। অভিযানের সময় কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আলমারির ড্রয়ার থেকে একটি স্বর্ণের চেইন চুরি করেছেন বলে বাড়ির লোকজন দাবি করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর বাড়ির সদস্যরা তাদের কাছে যথাযথ পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই চারজনকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধোপাপট্রি এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি নিজেরাই এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল পাঠিয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও সোর্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক ও সদস্যদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।