বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কার্ডভিত্তিক লেনদেনের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ জানান, গত কয়েক বছরে দেশে কার্ডে লেনদেনের হার বছরে ২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও দেশের সামগ্রিক লেনদেনের ৭০ শতাংশ এখনো নগদ অর্থ বা ক্যাশের ওপর নির্ভরশীল, তবে এই চিত্র দ্রুত পরিবর্তনের পথে।
সাব্বির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সহনশীল অর্থনীতি। গত বছর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সময় ডিজিটাল লেনদেন সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও দ্রুতই তা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বা ক্রস-বর্ডার লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি পুনরায় গতিশীল হবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ড পেমেন্টকে সহজ করতে ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ বা এনএফসি প্রযুক্তি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০টি কার্ড লেনদেনের মধ্যে ৬টিই এই স্পর্শহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে হচ্ছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পাস-কি’ প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক সমাধান আনা হয়েছে, যা গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করবে। বর্তমানে দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারের প্রায় ৭২ শতাংশ ভিসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে সাব্বির আহমেদ জানান, আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভিসা। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট পৌঁছে দিতে ‘ভিসা একসেপ্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মোবাইল ওয়ালেট বা অ্যাপভিত্তিক সেবাসমূহকে প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী হিসেবে দেখছে ভিসা। গুগল পে-এর সফল যাত্রার পর অ্যাপল পে চালুর সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৫-২৬ লাখ ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে এই বাজারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রিপোর্টার নাম: 




















