Hi

১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড: ইনুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলল ট্রাইব্যুনালে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ইনুর বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আইনি প্রক্রিয়ায় সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে ১০ বছর কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই সাথে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশও দেওয়া হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই সহিংসতায় সারা দেশে মোট ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ঢাকা ৩২, নারায়ণগঞ্জ ২০, চট্টগ্রাম ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার দায়ে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রুপার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন একাত্তর টেলিভিশনে ‘সমীকরণ’ নামক একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগকারী হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এই মামলায় ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, হাছান মাহমুদসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন বিচার বিভাগীয় তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে।

জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ সদস্য ও সোর্স

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড: ইনুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলল ট্রাইব্যুনালে

আপডেট : ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ইনুর বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আইনি প্রক্রিয়ায় সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে ১০ বছর কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেই সাথে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশও দেওয়া হয়েছে। শাপলা চত্বরের সেই সহিংসতায় সারা দেশে মোট ৫৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ঢাকা ৩২, নারায়ণগঞ্জ ২০, চট্টগ্রাম ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার দায়ে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রুপার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন একাত্তর টেলিভিশনে ‘সমীকরণ’ নামক একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগকারী হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এই মামলায় ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, হাছান মাহমুদসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন বিচার বিভাগীয় তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে।