Hi

০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ফিশিং ভেসেলে অগ্নিকাণ্ড: ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই নাবিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা একটি মাছ ধরার নৌযানে (ফিশিং ভেসেল) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই নাবিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নৌযানটির গ্রিজার মো. রুবেল (৩২) এবং শাহ আলম (৪০)। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে, যখন কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের মাছ ধরার নৌযানটিতে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ‘এফভি দেশ’-এর ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার মো. রুবেল ও শাহ আলমসহ মোট ছয়জন নাবিক দগ্ধ হন। এর মধ্যে পাশের নোঙর করা ‘এফভি ডিজনি’ নৌযানের তিন নাবিক—নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদও অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই আহত ছয়জনকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে আশিকুজ্জামান তামিম, মো. রুবেল এবং শাহ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রুবেল ও শাহ আলম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ নিশ্চিত করেছেন জাহাজের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ।

নিহত রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায় এবং শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালীতে। বুধবার সকালে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি তিন নাবিক—নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নৌযানে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।

জনপ্রিয়

৭ কোটি ৩৬ লাখ নাগরিকের হাতে স্মার্ট এনআইডি: নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রামে ফিশিং ভেসেলে অগ্নিকাণ্ড: ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই নাবিকের মৃত্যু

আপডেট : ০২:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা একটি মাছ ধরার নৌযানে (ফিশিং ভেসেল) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই নাবিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নৌযানটির গ্রিজার মো. রুবেল (৩২) এবং শাহ আলম (৪০)। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে, যখন কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের মাছ ধরার নৌযানটিতে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ‘এফভি দেশ’-এর ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার মো. রুবেল ও শাহ আলমসহ মোট ছয়জন নাবিক দগ্ধ হন। এর মধ্যে পাশের নোঙর করা ‘এফভি ডিজনি’ নৌযানের তিন নাবিক—নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদও অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই আহত ছয়জনকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে আশিকুজ্জামান তামিম, মো. রুবেল এবং শাহ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রুবেল ও শাহ আলম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ নিশ্চিত করেছেন জাহাজের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ।

নিহত রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায় এবং শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালীতে। বুধবার সকালে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি তিন নাবিক—নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নৌযানে এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।