আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় তরুণসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ২৬শে জুন বিকেলে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা ছিল প্রথম আলো ট্রাস্ট, যার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে কুষ্টিয়া বন্ধুসভা। মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় এবং একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতেই এই আয়োজনের সূত্রপাত।
মাদকাসক্তি আজ বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ভিত্তি নড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণ প্রজন্ম মাদকের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মাদক নির্মূলে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করা। এই প্রেক্ষাপটে কুষ্টিয়ার এই মানববন্ধন কর্মসূচির তাৎপর্য ছিল অপরিসীম। বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদকের ছোবল শুধু শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটায় না, বরং এটি অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মানববন্ধনে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কুষ্টিয়া সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা ওবাইদুর রহমান, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদ হাসান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও গবেষক ইমাম মেহেদী এবং প্রথম আলোর আঞ্চলিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন। এছাড়া কুষ্টিয়া বন্ধুসভার কার্যনির্বাহী সদস্য অনিক মামুন, সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিহাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শুকর হোসেন, প্রচার সম্পাদক রকি আহম্মেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য রিমন হোসেন এবং বন্ধু তানবীর ইমাম, রাব্বি হোসেন, আলামিন বিশ্বাসসহ আরও অনেকেই এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের এক বলিষ্ঠ বার্তা বহন করে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে তরুণদের মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করেন। তারা বলেন, তরুণরাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাদের বিপথগামী হওয়া মানে জাতির অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হওয়া। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন তাদের সন্তানদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন। একইসাথে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রথম আলো ট্রাস্ট এবং কুষ্টিয়া বন্ধুসভার এই উদ্যোগ সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা কেবল একটি মানববন্ধন আয়োজন করেই দায়িত্ব শেষ করেনি, বরং মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী জনসচেতনতা সৃষ্টির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই ধরনের কর্মসূচিগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সামাজিক শৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখছে, এবং মাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর।
মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে কেবল সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। একইসাথে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করে তাদের সুস্থ ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা অপরিহার্য। কুষ্টিয়ার এই মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে যে সচেতনতার বীজ বপন করা হলো, তা ভবিষ্যতে একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। এটি কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে একটি টেকসই সামাজিক লড়াইয়ের সূচনা।
রিপোর্টার নাম: 










