Hi

০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন: অক্ষত যাত্রীরা

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সোমবার রাতে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাসটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও, সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সময় মতো যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যেতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে, যা ব্যস্ত এই মহাসড়কে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এভার গ্রিন পরিবহন নামের বাসটি ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে পৌঁছাতেই হঠাৎ করেই বাসটির ইঞ্জিন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। বাসে তখন আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। চালক ও সহকারীদের দ্রুত পদক্ষেপে এবং যাত্রীদের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সবাই নিরাপদে বাস থেকে নেমে আসতে সক্ষম হন। এরপরই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা এক্সপ্রেসওয়ের উপর এক ভীতিকর দৃশ্যের অবতারণা করে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। যদি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছাতে না পারতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত, যাত্রীবাহী পরিবহনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, পুরনো তারের ব্যবহার, বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব অথবা জ্বালানি লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এই ধরনের ঘটনা পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং নিয়মিত যানবাহনের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যা বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক নামে পরিচিত, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কপথ। এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তায় উদ্বেগ বাড়ায়। কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গণপরিবহনের নিয়মিত ফিটনেস এবং নিরাপত্তা মান যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যাত্রীবাহী বাসের ক্ষেত্রে জরুরি নির্গমন পথ এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের পর্যাপ্ততা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, জনবহুল সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়শই ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে যাত্রীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়ার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পরিবহন মালিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বড়ছড়ায় ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন: অক্ষত যাত্রীরা

আপডেট : ০২:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সোমবার রাতে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাসটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও, সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সময় মতো যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যেতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে, যা ব্যস্ত এই মহাসড়কে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এভার গ্রিন পরিবহন নামের বাসটি ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে পৌঁছাতেই হঠাৎ করেই বাসটির ইঞ্জিন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। বাসে তখন আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। চালক ও সহকারীদের দ্রুত পদক্ষেপে এবং যাত্রীদের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সবাই নিরাপদে বাস থেকে নেমে আসতে সক্ষম হন। এরপরই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা এক্সপ্রেসওয়ের উপর এক ভীতিকর দৃশ্যের অবতারণা করে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। যদি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছাতে না পারতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত, যাত্রীবাহী পরিবহনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, পুরনো তারের ব্যবহার, বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব অথবা জ্বালানি লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এই ধরনের ঘটনা পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং নিয়মিত যানবাহনের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, যা বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক নামে পরিচিত, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কপথ। এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তায় উদ্বেগ বাড়ায়। কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গণপরিবহনের নিয়মিত ফিটনেস এবং নিরাপত্তা মান যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যাত্রীবাহী বাসের ক্ষেত্রে জরুরি নির্গমন পথ এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের পর্যাপ্ততা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, জনবহুল সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়শই ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে যাত্রীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়ার কারণে একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পরিবহন মালিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।