Hi

০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার তৎপরতা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৬:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছে

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই শোকে বিহ্বল নিহতের মা নারগিস বেগম ও স্বজনরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ওই তরুণী নিখোঁজ হন। এরপর পরদিন প্রতিবেশীর বাগানে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় মেয়েটির রিকশাচালক বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নিহত এক তরুণীর শোকে বাড়ির উঠানে বসে এভাবেই বিলাপ করছিলেন তাঁর মা নারগিস বেগম (৪০)। একপর্যায়ে পুলিশের ফোন পেয়ে তাঁরা রিকশায় করে থানায় রওনা দেন। ‘আমারার ঝিটা (মেয়ে) কম কথা কইত, বাইরা (বাইরের) মানুষের লগে মেলামেশা করত না। আমরার ঝিয়ের এত বড় ক্ষতি যে করল, এইটার শক্ত বিচার চাই।’। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশী নারীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পাশে একটি চেয়ারে মাথা নিচু করে বসেছিলেন মেয়েটির বাবা। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমার মাইয়াটারে কেউ ফুসলাইয়া নিয়া ক্ষতি করি মারছে। মেয়েটির মায়ের বিলাপের একপর্যায়ে বাবাও কেঁদে ওঠেন। জিঘান আশপাশের মানুষরে, আমি তো কেউর কোনো ক্ষতি করছি না, কেউর লগে দুশমনিও নাই।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা অভিযোগ করেছেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কয়েক বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পারিবারিক কলহের কারণে ওই মেয়ে এখন তাঁদের বাড়িতে থাকেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার ভাই-বোনের মধ্যে ছোট মেয়েটি শৈশব থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। মঙ্গলবার মাগরিবের আজানের পর থেকেই তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে পুরো এলাকায় মাইকিং করেও সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে প্রতিবেশীর বাগানে তাঁর দেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকালে মেয়েটির পরনের ওড়না গলায় শক্তভাবে পেঁচানো ছিল এবং কাপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই তরুণীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের ভিড়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদরে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এলাকায় অতীতে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। নিহতের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন তিনি, কারো সাথে তাঁর কোনো শত্রুতা নেই। নিজের সন্তানের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন করল সরকার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মৌলভীবাজারে তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার তৎপরতা

আপডেট : ০৬:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই শোকে বিহ্বল নিহতের মা নারগিস বেগম ও স্বজনরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ওই তরুণী নিখোঁজ হন। এরপর পরদিন প্রতিবেশীর বাগানে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় মেয়েটির রিকশাচালক বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নিহত এক তরুণীর শোকে বাড়ির উঠানে বসে এভাবেই বিলাপ করছিলেন তাঁর মা নারগিস বেগম (৪০)। একপর্যায়ে পুলিশের ফোন পেয়ে তাঁরা রিকশায় করে থানায় রওনা দেন। ‘আমারার ঝিটা (মেয়ে) কম কথা কইত, বাইরা (বাইরের) মানুষের লগে মেলামেশা করত না। আমরার ঝিয়ের এত বড় ক্ষতি যে করল, এইটার শক্ত বিচার চাই।’। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশী নারীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পাশে একটি চেয়ারে মাথা নিচু করে বসেছিলেন মেয়েটির বাবা। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমার মাইয়াটারে কেউ ফুসলাইয়া নিয়া ক্ষতি করি মারছে। মেয়েটির মায়ের বিলাপের একপর্যায়ে বাবাও কেঁদে ওঠেন। জিঘান আশপাশের মানুষরে, আমি তো কেউর কোনো ক্ষতি করছি না, কেউর লগে দুশমনিও নাই।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা অভিযোগ করেছেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কয়েক বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পারিবারিক কলহের কারণে ওই মেয়ে এখন তাঁদের বাড়িতে থাকেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার ভাই-বোনের মধ্যে ছোট মেয়েটি শৈশব থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। মঙ্গলবার মাগরিবের আজানের পর থেকেই তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে পুরো এলাকায় মাইকিং করেও সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে প্রতিবেশীর বাগানে তাঁর দেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকালে মেয়েটির পরনের ওড়না গলায় শক্তভাবে পেঁচানো ছিল এবং কাপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই তরুণীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের ভিড়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদরে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এলাকায় অতীতে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। নিহতের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন তিনি, কারো সাথে তাঁর কোনো শত্রুতা নেই। নিজের সন্তানের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।