Hi

১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই ব্যয় নির্বাহে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের একটি নিলাম ডেকেছে, যার মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকার ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। বুধবারের এই নতুন নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে অক্টোবরে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে মাসটিতে মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য নিয়মিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই স্বল্পমেয়াদি এই বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়েছে। সাধারণত সরকার ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ব্যবহার করলেও রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিলের শরণাপন্ন হয়।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় ব্যাংকনির্ভরতা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকারি বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ বর্তমানে বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে অর্থায়নের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নিলামে বিক্রি হওয়া ট্রেজারি বিল ও বন্ডের পুরো অর্থ সরকারের নতুন ঋণ নয়; এর একটি অংশ পুরনো ঋণের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধের কাজে ব্যবহৃত হয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। ঋণের চাহিদা বৃদ্ধিতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থাকলেও ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আগস্ট মাসের শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

বিপুল তারল্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়ায় সুদহারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সুকুকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রচলিত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।

রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

আপডেট : ০৯:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই ব্যয় নির্বাহে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের একটি নিলাম ডেকেছে, যার মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকার ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। বুধবারের এই নতুন নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে অক্টোবরে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল। বুধবারের (২৮ অক্টোবর) নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলে মাসটিতে মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য নিয়মিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই স্বল্পমেয়াদি এই বিশেষ ট্রেজারি বিল ইস্যু করা হয়েছে। সাধারণত সরকার ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিল ব্যবহার করলেও রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে ১৪ দিন মেয়াদি বিলের শরণাপন্ন হয়।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় ব্যাংকনির্ভরতা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকারি বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ বর্তমানে বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে অর্থায়নের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নিলামে বিক্রি হওয়া ট্রেজারি বিল ও বন্ডের পুরো অর্থ সরকারের নতুন ঋণ নয়; এর একটি অংশ পুরনো ঋণের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধের কাজে ব্যবহৃত হয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। ঋণের চাহিদা বৃদ্ধিতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থাকলেও ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আগস্ট মাসের শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।

বিপুল তারল্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়ায় সুদহারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সুকুকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রচলিত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।