Hi

১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জ্বালানি ও সার সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য এবং সার সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ ও চামড়াশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতেও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা প্রসারিত করতে চায় উত্তর আফ্রিকার দেশটি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দুই দেশের মধ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক উঠে আসে। আলোচনায় দুই দেশের জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এই চুক্তির ফলে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার জরুরি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত সই করার জন্য তাঁদের দেশের প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশের তেল শোধনাগার ও এলএনজি কাঠামোর সংস্কার, উন্নয়ন এবং নতুন কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞান বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের কারিগরি সামর্থ্য বাড়াতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আলজেরিয়া থেকে সার আমদানির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর জবাবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার সরবরাহসহ কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, নিজস্ব বস্ত্রশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, চামড়া ও ওষুধশিল্পে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়াতে জোর দেন দুই মন্ত্রী।

দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিয়মিত ফরেন অফিস কনসালটেশন বা পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দ্রুতই ঢাকায় আয়োজনের ব্যাপারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আগামীতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়ের ওপরও বৈঠকে জোর প্রদান করা হয়।

২৯ বছরেও কাটেনি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশে জ্বালানি ও সার সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া

আপডেট : ০৮:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য এবং সার সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ ও চামড়াশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতেও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা প্রসারিত করতে চায় উত্তর আফ্রিকার দেশটি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দুই দেশের মধ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক উঠে আসে। আলোচনায় দুই দেশের জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এই চুক্তির ফলে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার জরুরি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত সই করার জন্য তাঁদের দেশের প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশের তেল শোধনাগার ও এলএনজি কাঠামোর সংস্কার, উন্নয়ন এবং নতুন কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞান বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের কারিগরি সামর্থ্য বাড়াতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আলজেরিয়া থেকে সার আমদানির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর জবাবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার সরবরাহসহ কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, নিজস্ব বস্ত্রশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, চামড়া ও ওষুধশিল্পে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাড়াতে জোর দেন দুই মন্ত্রী।

দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিয়মিত ফরেন অফিস কনসালটেশন বা পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দ্রুতই ঢাকায় আয়োজনের ব্যাপারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আগামীতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়ের ওপরও বৈঠকে জোর প্রদান করা হয়।