Hi

১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ নভেম্বর থেকে রাস্তার ধারের দোকানসহ সব খাদ্য ব্যবসায়

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে বড় আকারের খাদ্য প্রতিষ্ঠান—সবকিছুর জন্যই এখন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে খাবারের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় আরেকটি ধাপ বাড়ল। ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই বিধানের আওতায় ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনাকে নিবন্ধনের অধীনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ফলের রসের দোকান, ক্যাটারিং সার্ভিস, প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারী, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারক, পাইকারি মুদি ব্যবসা, হিমাগার, এবং পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতারা।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে কেবল নিবন্ধন নয়, লাইসেন্সও নিতে হবে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক বা রোগীদের বিশেষ পথ্য, সাপ্লিমেন্ট, প্রোবায়োটিক, নিউট্রাসিউটিক্যালস এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য বা অর্গানিক খাবারের মতো ব্যবসার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই নিবন্ধনের মূল লক্ষ্য হলো খাবার বিক্রেতাদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। এর মাধ্যমে বিক্রেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা সহজ হবে এবং প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি করা হবে না। এছাড়া, যেসব ব্যবসায়ী রাস্তায় খাবার বিক্রি করছেন, তাদের পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিবন্ধন ও লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে।

সাধারণ ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে দেওয়া হলেও বিশেষায়িত ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি দিতে হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার চেয়ে ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটি লাইসেন্স বা নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর, যার মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হবে। খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক, যা ভোক্তাদের পণ্য সম্পর্কে জানতে ও অভিযোগ জানাতে সাহায্য করবে।

তবে নতুন এই নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়াই যেখানে জটিল, সেখানে নতুন এই বাধ্যবাধকতা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এটি জরিমানা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এটি কার্যকর করা হচ্ছে। এ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একক নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঠিক করা দরকার ছিল বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।’’।

বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়াটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতাভুক্ত কোনো ব্যবসা অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বিএফএসএ সব ব্যবসায়ীকে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রক্রিয়া মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

২৯ বছরেও কাটেনি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

১ নভেম্বর থেকে রাস্তার ধারের দোকানসহ সব খাদ্য ব্যবসায়

আপডেট : ০৮:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে বড় আকারের খাদ্য প্রতিষ্ঠান—সবকিছুর জন্যই এখন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে খাবারের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় আরেকটি ধাপ বাড়ল। ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই বিধানের আওতায় ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনাকে নিবন্ধনের অধীনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ফলের রসের দোকান, ক্যাটারিং সার্ভিস, প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারী, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারক, পাইকারি মুদি ব্যবসা, হিমাগার, এবং পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতারা।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে কেবল নিবন্ধন নয়, লাইসেন্সও নিতে হবে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক বা রোগীদের বিশেষ পথ্য, সাপ্লিমেন্ট, প্রোবায়োটিক, নিউট্রাসিউটিক্যালস এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য বা অর্গানিক খাবারের মতো ব্যবসার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই নিবন্ধনের মূল লক্ষ্য হলো খাবার বিক্রেতাদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। এর মাধ্যমে বিক্রেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা সহজ হবে এবং প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি করা হবে না। এছাড়া, যেসব ব্যবসায়ী রাস্তায় খাবার বিক্রি করছেন, তাদের পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিবন্ধন ও লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে।

সাধারণ ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে দেওয়া হলেও বিশেষায়িত ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি দিতে হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার চেয়ে ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটি লাইসেন্স বা নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর, যার মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হবে। খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক, যা ভোক্তাদের পণ্য সম্পর্কে জানতে ও অভিযোগ জানাতে সাহায্য করবে।

তবে নতুন এই নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়াই যেখানে জটিল, সেখানে নতুন এই বাধ্যবাধকতা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এটি জরিমানা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এটি কার্যকর করা হচ্ছে। এ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একক নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঠিক করা দরকার ছিল বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।’’।

বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়াটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতাভুক্ত কোনো ব্যবসা অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বিএফএসএ সব ব্যবসায়ীকে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রক্রিয়া মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।