Hi

০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজেকে অবরোধ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের গোলাগুলি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ জন দেখেছে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরানোর দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পাঠানোর জন্য যৌথবাহিনীর (সেনাবাহিনী ও পুলিশ) একটি গাড়িবহর রওনা হয়। ওই বহরটি বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা পথরোধ করার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করে। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, অবরোধের জেরে সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন, যাদের পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া পাহারায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

অবরোধের জেরে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, সাজেকের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এই ঘটনার পাশাপাশি দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যেও দফায় দফায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও তৎকালীন দুর্গাপূজা ও প্রশাসনের আশ্বাসে তা সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের কর্মসূচি শুরু হয়। সড়ক অবরোধের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পিকেটাররা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাজেকে অবরোধ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের গোলাগুলি

আপডেট : ০৫:০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরানোর দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পাঠানোর জন্য যৌথবাহিনীর (সেনাবাহিনী ও পুলিশ) একটি গাড়িবহর রওনা হয়। ওই বহরটি বাঘাইহাট উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা পথরোধ করার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করে। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, অবরোধের জেরে সাজেক ভ্যালিতে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন, যাদের পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া পাহারায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

অবরোধের জেরে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, সাজেকের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এই ঘটনার পাশাপাশি দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যেও দফায় দফায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও তৎকালীন দুর্গাপূজা ও প্রশাসনের আশ্বাসে তা সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের কর্মসূচি শুরু হয়। সড়ক অবরোধের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পিকেটাররা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।