দেশের কয়েকটি পোশাক ও কল-কারখানায় পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে এবং স্বৈরাচারী গোষ্ঠী সীমান্তের ওপার থেকে টাকা পাঠিয়ে এই অস্থিরতায় ইন্ধন দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানান, গোয়েন্দা সূত্রে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের হাতে এসেছে। রাজনৈতিকভাবে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া একটি গোষ্ঠী এ দেশের মাটিতে বসে সেই ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এসময় তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। আমাদের কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। সেই সব ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্ব ও শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করেই বিএনপি আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করছে এবং শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কাজ করে যাচ্ছে। গত সোমবার ঢাকায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হলেও মুখে জুলাই আন্দোলনের কথা বলা কয়েকটি রাজনৈতিক দল ওই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, একাত্তরের মতো চব্বিশের আন্দোলন নিয়েও এসব দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একইসঙ্গে বিরোধীদের ভুয়া প্রতিশ্রুতি ও টিকিট বিক্রির রাজনীতিকে জনগণ প্রত্যাখান করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সব দলগুলোর কোনও প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।
জনসভায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কৃষিবান্ধব নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের আখচাষিদের সহায়তায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন চাষি উপকৃত হবেন। বক্তব্য চলাকালেই তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চেপে এই প্রণোদনার অর্থ সরাসরি ১৫টি সুগার মিল জোনের কৃষকদের নিজ নিজ মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। উপস্থিত হাজারো জনতা এসময় ‘বিসমিল্লাহ’ ধ্বনিতে উল্লাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিকী হিসেবে ১৫ জন কৃষকের হাতে সরাসরি প্রণোদনার চেকও তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেবো। এর আগে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রদান করেন। চাপটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষি ভাইদের অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।
দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরও বিএনপির পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। অতীতের মতো রাজনৈতিক ভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টাকারীদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে বলেন তিনি। তিনি বলেন, উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী ৫ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। তখন বলেছিল, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করবো কি না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় জনসভায় দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এমপি, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার নাম: 
























