Hi

০৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ পরিত্যক্ত বিমান নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা বেবিচকের

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে পড়ে রয়েছে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। এসব বিমান এখন কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার পর এখন আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর গত ১৬ জুলাই বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই নিলাম আয়োজনের জন্য অনুমোদনের আবেদন জানানো হয়েছে। এরপর জাতীয় দৈনিকেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে। এই জায়গাটি বিমানবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এলাকা হিসেবে পরিচিত।

কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত এই বিপুল জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজ পড়ে থাকায় রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর প্রায় সব যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে এবং সেগুলোতে মরচে ধরেছে। ফলে এগুলো আর উড্ডয়নযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলোর মূল্য নির্ধারণ করতে যে খরচ হবে, তা বিক্রয়মূল্য থেকে উঠে আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এই বাস্তবতায় প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে বেবিচক জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সহযোগিতা চাইলেও দেশীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে, যা বিক্রয়মূল্যের চেয়েও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্য নির্ধারণে যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

উড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। এরপর এয়ারলাইন্সগুলোকে বিমান সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার পর বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অবহিত করার পর সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে এই পরিত্যক্ত বিমানগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভিত্তিমূল্য ছাড়াই নিলামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে, যা থেকে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে অ্যাপ্রোন এলাকাটি মুক্ত হয়ে বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম ও পরিচালন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ পরিত্যক্ত বিমান নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা বেবিচকের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ পরিত্যক্ত বিমান নিলামে বিক্রির পরিকল্পনা বেবিচকের

আপডেট : ০৭:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে পড়ে রয়েছে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। এসব বিমান এখন কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার পর এখন আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর গত ১৬ জুলাই বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই নিলাম আয়োজনের জন্য অনুমোদনের আবেদন জানানো হয়েছে। এরপর জাতীয় দৈনিকেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে। এই জায়গাটি বিমানবন্দরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এলাকা হিসেবে পরিচিত।

কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা ও উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত এই বিপুল জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজ পড়ে থাকায় রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর প্রায় সব যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে এবং সেগুলোতে মরচে ধরেছে। ফলে এগুলো আর উড্ডয়নযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলোর মূল্য নির্ধারণ করতে যে খরচ হবে, তা বিক্রয়মূল্য থেকে উঠে আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এই বাস্তবতায় প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে বেবিচক জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সহযোগিতা চাইলেও দেশীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে, যা বিক্রয়মূল্যের চেয়েও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্য নির্ধারণে যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

উড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। এরপর এয়ারলাইন্সগুলোকে বিমান সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার পর বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অবহিত করার পর সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে এই পরিত্যক্ত বিমানগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভিত্তিমূল্য ছাড়াই নিলামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে, যা থেকে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে অ্যাপ্রোন এলাকাটি মুক্ত হয়ে বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম ও পরিচালন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।