Hi

০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নাভহান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছে

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের মঞ্চে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান উজায়ের রঈস চৌধুরী। গতকাল বুধবার আয়োজিত ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে নিজের রচিত পিয়ানো কম্পোজিশন পরিবেশন করে তিনি বিচারকদের মুগ্ধ করেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান কিশোর-তরুণ সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা চলছে। কেউ জ্যাজ, কেউ পপ, কেউ গ্রাইম, আবার কেউ ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশন করছেন। শেষ পর্যন্ত তার হাতেই ওঠে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ সংগীত প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নের সম্মাননা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকেরাও উপস্থিত ছিলেন। এফ-শার্প মাইনর স্কেলে রচিত সংগীতটির বিষয়বস্তু যুদ্ধ ও ভালোবাসা। তবে শুধু ধ্রুপদি সংগীতেই তার আগ্রহ সীমাবদ্ধ নয়। সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের বিনিয়োগ কমিটির বার্ষিক নৈশভোজে তার সেই পরিবেশনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এই সংগীত দলের জন্য তার রচিত গান যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে পরিবেশিত হয়েছে। তাঁর মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর গাওয়া ঘুমপাড়ানি গানের সুর অনুকরণের চেষ্টা করত নাভহান। আট বছর বয়সের দিকে শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা। সাত বছর বয়স থেকে বাংলা, উর্দু ও হিন্দি গান গাইতেন তিনি।

এবারের আসরে ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী হাজারো তরুণ সংগীতশিল্পীর মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৯ জনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। প্রতিযোগীদের বয়স ১৪ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। সেখান থেকে নির্বাচিত নাভহানসহ ৯ প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন।

চূড়ান্ত মঞ্চে নাভহান পরিবেশন করে তার নিজের তৈরি ‘লা দ্যুল্যর এক্সকিজ’ (La Douleur Exquise) শিরোনামের একটি পিয়ানো সংগীত।

ফরাসি ভাষায় এই শিরোনামের অর্থ তীব্র বেদনা।

পিয়ানোয় সুরের নানা কারুকাজে তিনি যুদ্ধ ও ভালোবাসার মধ্যকার সংঘাত ও আবেগের গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন, যার মূল বার্তা ছিল ঘৃণার বিপরীতে ভালোবাসার বিজয়। পিয়ানোয় ডান ও বাঁ হাতের বিপরীতধর্মী সুরে তিনি ফুটিয়ে তোলেন দুই পক্ষের সংঘাত, ভালোবাসা, বেদনা ও আবেগ।

নাভহানের মা রুবেনা চৌধুরী জানান, গত মে মাসে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর জুন মাসে অনুষ্ঠিত সরাসরি অডিশনের মাধ্যমে নাভহান তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিল। এরপর চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে সে এই বড় সাফল্যে পৌঁছায়। যুদ্ধের বিপরীত দুই প্রেমিক-প্রেমিকার গল্পকে সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরে নাভহান। পরবর্তী ধাপে জুনে অনুষ্ঠিত সরাসরি অডিশনে অংশ নেওয়া ২৫ জনের মধ্যেও নাভহান জায়গা করে নেয়। ভাষা বা সংগীতের ধরন–নির্বিশেষে সব ধরনের সংগীত তার কাছে উপভোগ্য। এই দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে নাভহান ছোট।

এই জয়ের ফলে নাভহান আগামী এক বছর সংগীতশিল্পের পেশাদারদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সহায়তা পাবে। এর মধ্যে সংগীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং, প্রচারণা এবং নিজস্ব ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে সে বিভিন্ন অভিজ্ঞ শিল্পীর কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী নাভহান বর্তমানে হ্যারো স্কুলের শিক্ষার্থী। ১৩ বছর বয়সে সংগীতবৃত্তি নিয়ে সে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। হ্যারো স্কুলে সে পিয়ানো ও চেলো বাদ্যযন্ত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তার সংগীত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সে অল্প বয়সেই সব গ্রেড পরীক্ষায় ‘ডিস্টিংশন’ অর্জন করেছে। ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগীতবৃত্তি পেয়ে এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পায় নাভহান। বর্তমানে খ্যাতিমান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে উভয় বাদ্যযন্ত্রে ডিপ্লোমা পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।

নাভহানের বিশেষ সংগীত দক্ষতার মধ্যে অন্যতম হলো ‘পারফেক্ট পিচ’, যার মাধ্যমে সে যেকোনো সুর নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। হ্যারো স্কুলের বায়রন কনসোর্ট চেম্বার কয়ারের সদস্য হিসেবে তার রচিত সংগীত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া সে স্কুলের সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও বিগ ব্যান্ডের সঙ্গে নিয়মিত পরিবেশনায় অংশ নেয়। সেটি কণ্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত কিংবা উভয়ের সমন্বয়ে হতে পারে।

এর আগে নাভহান ব্রেন্টউড স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল এবং লন্ডনের গিল্ডহল স্কুল অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামাতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে লন্ডনের ঐতিহাসিক ড্রেপার্স হলে নিজের রচিত সংগীত পরিবেশন করে সে তৎকালীন দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। লন্ডনের ভারতীয় বিদ্যা ভবনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় কণ্ঠসংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। বড় বোনের সংগীতচর্চা শৈশব থেকে নাভহানকে অনুপ্রাণিত করেছে।

নাভহানের বাবা মোহাম্মদ চৌধুরী (যিনি ভুলন চৌধুরী নামে পরিচিত) দিনাজপুরের সন্তান এবং ১৯৯৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার মা রুবেনা চৌধুরীর আদি বাড়ি সিলেটে এবং তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হয়েছেন। নাভহানের সংগীতচর্চার অনুপ্রেরণার পেছনে তার মায়ের ভূমিকা রয়েছে, যিনি নিজে একজন প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী। এছাড়া নাভহানের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী মাহমুদুন্নবী এবং গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরীর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। বিখ্যাত সুরকার ফ্রেদেরিক শোপাঁ, সের্গেই রাখমানিনভ ও ফ্রানৎস লিস্ট তাঁর সংগীতচর্চার অনুপ্রেরণা।

রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ২০২২ সালে শুরু হওয়া ‘ফিউচার মেকার্স’ প্রতিযোগিতা মূলত যুক্তরাজ্যের তরুণ শিল্পীদের পেশাদার সংগীতজীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়। প্রতিযোগিতায় মৌলিক সংগীত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং চূড়ান্ত বিজয়ীদের জন্য স্টুডিও ব্যবহারের পাশাপাশি রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের এলগার রুমে নিজস্ব পরিবেশনার সুযোগ থাকে।

শর্টকাটে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নাভহান

আপডেট : ০১:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের মঞ্চে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ১৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান উজায়ের রঈস চৌধুরী। গতকাল বুধবার আয়োজিত ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে নিজের রচিত পিয়ানো কম্পোজিশন পরিবেশন করে তিনি বিচারকদের মুগ্ধ করেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান কিশোর-তরুণ সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা চলছে। কেউ জ্যাজ, কেউ পপ, কেউ গ্রাইম, আবার কেউ ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশন করছেন। শেষ পর্যন্ত তার হাতেই ওঠে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ সংগীত প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নের সম্মাননা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকেরাও উপস্থিত ছিলেন। এফ-শার্প মাইনর স্কেলে রচিত সংগীতটির বিষয়বস্তু যুদ্ধ ও ভালোবাসা। তবে শুধু ধ্রুপদি সংগীতেই তার আগ্রহ সীমাবদ্ধ নয়। সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের বিনিয়োগ কমিটির বার্ষিক নৈশভোজে তার সেই পরিবেশনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এই সংগীত দলের জন্য তার রচিত গান যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে পরিবেশিত হয়েছে। তাঁর মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর গাওয়া ঘুমপাড়ানি গানের সুর অনুকরণের চেষ্টা করত নাভহান। আট বছর বয়সের দিকে শুরু হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা। সাত বছর বয়স থেকে বাংলা, উর্দু ও হিন্দি গান গাইতেন তিনি।

এবারের আসরে ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী হাজারো তরুণ সংগীতশিল্পীর মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ৯ জনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। প্রতিযোগীদের বয়স ১৪ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। সেখান থেকে নির্বাচিত নাভহানসহ ৯ প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন।

চূড়ান্ত মঞ্চে নাভহান পরিবেশন করে তার নিজের তৈরি ‘লা দ্যুল্যর এক্সকিজ’ (La Douleur Exquise) শিরোনামের একটি পিয়ানো সংগীত।

ফরাসি ভাষায় এই শিরোনামের অর্থ তীব্র বেদনা।

পিয়ানোয় সুরের নানা কারুকাজে তিনি যুদ্ধ ও ভালোবাসার মধ্যকার সংঘাত ও আবেগের গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন, যার মূল বার্তা ছিল ঘৃণার বিপরীতে ভালোবাসার বিজয়। পিয়ানোয় ডান ও বাঁ হাতের বিপরীতধর্মী সুরে তিনি ফুটিয়ে তোলেন দুই পক্ষের সংঘাত, ভালোবাসা, বেদনা ও আবেগ।

নাভহানের মা রুবেনা চৌধুরী জানান, গত মে মাসে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর জুন মাসে অনুষ্ঠিত সরাসরি অডিশনের মাধ্যমে নাভহান তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিল। এরপর চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে সে এই বড় সাফল্যে পৌঁছায়। যুদ্ধের বিপরীত দুই প্রেমিক-প্রেমিকার গল্পকে সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরে নাভহান। পরবর্তী ধাপে জুনে অনুষ্ঠিত সরাসরি অডিশনে অংশ নেওয়া ২৫ জনের মধ্যেও নাভহান জায়গা করে নেয়। ভাষা বা সংগীতের ধরন–নির্বিশেষে সব ধরনের সংগীত তার কাছে উপভোগ্য। এই দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে নাভহান ছোট।

এই জয়ের ফলে নাভহান আগামী এক বছর সংগীতশিল্পের পেশাদারদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সহায়তা পাবে। এর মধ্যে সংগীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং, প্রচারণা এবং নিজস্ব ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে সে বিভিন্ন অভিজ্ঞ শিল্পীর কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী নাভহান বর্তমানে হ্যারো স্কুলের শিক্ষার্থী। ১৩ বছর বয়সে সংগীতবৃত্তি নিয়ে সে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। হ্যারো স্কুলে সে পিয়ানো ও চেলো বাদ্যযন্ত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তার সংগীত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সে অল্প বয়সেই সব গ্রেড পরীক্ষায় ‘ডিস্টিংশন’ অর্জন করেছে। ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগীতবৃত্তি পেয়ে এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পায় নাভহান। বর্তমানে খ্যাতিমান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে উভয় বাদ্যযন্ত্রে ডিপ্লোমা পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।

নাভহানের বিশেষ সংগীত দক্ষতার মধ্যে অন্যতম হলো ‘পারফেক্ট পিচ’, যার মাধ্যমে সে যেকোনো সুর নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। হ্যারো স্কুলের বায়রন কনসোর্ট চেম্বার কয়ারের সদস্য হিসেবে তার রচিত সংগীত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া সে স্কুলের সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও বিগ ব্যান্ডের সঙ্গে নিয়মিত পরিবেশনায় অংশ নেয়। সেটি কণ্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত কিংবা উভয়ের সমন্বয়ে হতে পারে।

এর আগে নাভহান ব্রেন্টউড স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল এবং লন্ডনের গিল্ডহল স্কুল অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামাতেও প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে লন্ডনের ঐতিহাসিক ড্রেপার্স হলে নিজের রচিত সংগীত পরিবেশন করে সে তৎকালীন দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। লন্ডনের ভারতীয় বিদ্যা ভবনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় কণ্ঠসংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। বড় বোনের সংগীতচর্চা শৈশব থেকে নাভহানকে অনুপ্রাণিত করেছে।

নাভহানের বাবা মোহাম্মদ চৌধুরী (যিনি ভুলন চৌধুরী নামে পরিচিত) দিনাজপুরের সন্তান এবং ১৯৯৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার মা রুবেনা চৌধুরীর আদি বাড়ি সিলেটে এবং তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হয়েছেন। নাভহানের সংগীতচর্চার অনুপ্রেরণার পেছনে তার মায়ের ভূমিকা রয়েছে, যিনি নিজে একজন প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী। এছাড়া নাভহানের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী মাহমুদুন্নবী এবং গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরীর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। বিখ্যাত সুরকার ফ্রেদেরিক শোপাঁ, সের্গেই রাখমানিনভ ও ফ্রানৎস লিস্ট তাঁর সংগীতচর্চার অনুপ্রেরণা।

রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ২০২২ সালে শুরু হওয়া ‘ফিউচার মেকার্স’ প্রতিযোগিতা মূলত যুক্তরাজ্যের তরুণ শিল্পীদের পেশাদার সংগীতজীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়। প্রতিযোগিতায় মৌলিক সংগীত জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং চূড়ান্ত বিজয়ীদের জন্য স্টুডিও ব্যবহারের পাশাপাশি রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের এলগার রুমে নিজস্ব পরিবেশনার সুযোগ থাকে।