Hi

০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভক্ত বিশ্বে লালন দর্শনই আশার বাতিঘর: দীনেশ ত্রিবেদী

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘লালন সন্ধ্যা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে সাধক লালন সাঁইয়ের দর্শন মানবজাতির জন্য আশার বাতিঘর হিসেবে কাজ করতে পারে। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের যৌথ আয়োজনে লালন সাঁইয়ের ১৭৬তম তিরোধান বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে লালন ফকিরের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা অনন্য দিশা হতে পারে। তিনি বলেন, দুইশ বছরের বেশি পুরোনো লালনের বাণী আজও সূর্যের আলোর মতো চিরনতুন এবং মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো হলেও লালনের বাণী আজও সূর্যের আলোর মতো চিরনতুন এবং মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তির সঙ্গে জড়িত।

নিজের কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, কোভিড মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভাইরাস সবাইকে আক্রান্ত করে। ঠিক তেমনি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের রক্ত আলাদা করা সম্ভব নয়, যা লালন ফকির অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন। মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে মানবিক পরিচয়ই যে শ্রেষ্ঠ, তা তার দর্শনে স্পষ্ট। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সমাজকে মহাসমুদ্রে দিকভ্রান্ত জাহাজের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, দিশেহারা মানুষের জন্য লালনের দর্শন একটি রক্ষাকবচ। লালনকে কেবল উৎসব বা সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনাকে দৈনন্দিন জীবনে ধারণের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন ওস্তাদ শফি মন্ডল, নাসরীন আক্তার বিউটি এবং অচীন পাখি সংগীত একাডেমির শিল্পীরা। এছাড়া লালন ব্যান্ড জনপ্রিয় পাঁচটি গান পরিবেশন করে আসর জমিয়ে তোলে। লালন কেবল সংগীতের উৎস নন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সেতুও।

জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে তেল কোম্পানির মুনাফা লুট: স্যান্ডার্স

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিভক্ত বিশ্বে লালন দর্শনই আশার বাতিঘর: দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট : ০৬:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘লালন সন্ধ্যা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে সাধক লালন সাঁইয়ের দর্শন মানবজাতির জন্য আশার বাতিঘর হিসেবে কাজ করতে পারে। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের যৌথ আয়োজনে লালন সাঁইয়ের ১৭৬তম তিরোধান বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে লালন ফকিরের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা অনন্য দিশা হতে পারে। তিনি বলেন, দুইশ বছরের বেশি পুরোনো লালনের বাণী আজও সূর্যের আলোর মতো চিরনতুন এবং মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো হলেও লালনের বাণী আজও সূর্যের আলোর মতো চিরনতুন এবং মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক ভিত্তির সঙ্গে জড়িত।

নিজের কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, কোভিড মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভাইরাস সবাইকে আক্রান্ত করে। ঠিক তেমনি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের রক্ত আলাদা করা সম্ভব নয়, যা লালন ফকির অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন। মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে মানবিক পরিচয়ই যে শ্রেষ্ঠ, তা তার দর্শনে স্পষ্ট। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সমাজকে মহাসমুদ্রে দিকভ্রান্ত জাহাজের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, দিশেহারা মানুষের জন্য লালনের দর্শন একটি রক্ষাকবচ। লালনকে কেবল উৎসব বা সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনাকে দৈনন্দিন জীবনে ধারণের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন ওস্তাদ শফি মন্ডল, নাসরীন আক্তার বিউটি এবং অচীন পাখি সংগীত একাডেমির শিল্পীরা। এছাড়া লালন ব্যান্ড জনপ্রিয় পাঁচটি গান পরিবেশন করে আসর জমিয়ে তোলে। লালন কেবল সংগীতের উৎস নন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সেতুও।