Hi

০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশসহ ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে অন্তত ৯ কোটি মানুষ আজ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন করছেন। খরা, বন্যা ও প্রচণ্ড দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো এই বাস্তুচ্যুতির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটি জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর সহায়তা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। এতে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফলে তাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাভাসে উল্লেখ করা বড় আকারের এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই প্রতিবেদন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বের মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বসবাস করছেন বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে, যা জলবায়ুগত দিক থেকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই দেশগুলোতে সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব একযোগে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

সংস্থাটির সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশন্স) অ্যান্টন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাতকবলিত ভঙ্গুর এলাকাগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন এখন আর কেবল উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং তা মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত। যাদের এই সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অর্থায়ন যেন সরাসরি সেই সব স্থানেই পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদনে সুদানের আল-ফাশির থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি নাগরিকের দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ক্রমবর্ধমান তাপদাহে জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির জন্য ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় পুরো এক সপ্তাহেও তিনি নিরাপদ পানি পান করতে পারছেন না। একই ধরনের সংকট সিরিয়াতেও দেখা যাচ্ছে; সম্প্রতি ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের শিকার হচ্ছেন, যার ওপর গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদনে সুদানের আল-ফাশিরে সংঘাত থেকে বাঁচতে ২০২৩ সালের জুনে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি নাগরিকের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর আরও সতর্ক করেছে যে, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বাস্তুচ্যুতদের নিজ ভিটায় ফেরা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিজ দেশে ফেরা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই এমন জায়গায় ফিরেছেন, যা উচ্চ মাত্রার জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপদাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো এলাকায় বছরে ২০০ দিন পর্যন্ত এই তীব্র গরম স্থায়ী হতে পারে, যা হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে খরা ও বন্যার কারণে সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে।

এল নিনোর মতো জলবায়ু পরিস্থিতি সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশের মতো ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে পৌঁছায়, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। তুরস্কের কপ৩১ সম্মেলনে বৈশ্বিক নেতাদের কাছে এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এসব মানুষের দুর্ভোগ কেবল আরও বাড়বে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

সিলেটে জমে উঠেছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশসহ ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর

আপডেট : ০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে অন্তত ৯ কোটি মানুষ আজ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন করছেন। খরা, বন্যা ও প্রচণ্ড দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো এই বাস্তুচ্যুতির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটি জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর সহায়তা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। এতে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ফলে তাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাভাসে উল্লেখ করা বড় আকারের এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই প্রতিবেদন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বের মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বসবাস করছেন বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে, যা জলবায়ুগত দিক থেকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই দেশগুলোতে সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব একযোগে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

সংস্থাটির সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশন্স) অ্যান্টন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাতকবলিত ভঙ্গুর এলাকাগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন এখন আর কেবল উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং তা মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত। যাদের এই সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অর্থায়ন যেন সরাসরি সেই সব স্থানেই পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদনে সুদানের আল-ফাশির থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি নাগরিকের দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ক্রমবর্ধমান তাপদাহে জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির জন্য ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় পুরো এক সপ্তাহেও তিনি নিরাপদ পানি পান করতে পারছেন না। একই ধরনের সংকট সিরিয়াতেও দেখা যাচ্ছে; সম্প্রতি ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের শিকার হচ্ছেন, যার ওপর গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদনে সুদানের আল-ফাশিরে সংঘাত থেকে বাঁচতে ২০২৩ সালের জুনে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি নাগরিকের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর আরও সতর্ক করেছে যে, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বাস্তুচ্যুতদের নিজ ভিটায় ফেরা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিজ দেশে ফেরা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই এমন জায়গায় ফিরেছেন, যা উচ্চ মাত্রার জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপদাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো এলাকায় বছরে ২০০ দিন পর্যন্ত এই তীব্র গরম স্থায়ী হতে পারে, যা হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে খরা ও বন্যার কারণে সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে।

এল নিনোর মতো জলবায়ু পরিস্থিতি সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশের মতো ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে পৌঁছায়, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। তুরস্কের কপ৩১ সম্মেলনে বৈশ্বিক নেতাদের কাছে এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এসব মানুষের দুর্ভোগ কেবল আরও বাড়বে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।