Hi

০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদয়ন স্কুলে ছাত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ: বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজধানীর উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করা, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ভয়াবহ হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হওয়ায় বিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই একপেশে ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ওই শিক্ষার্থীর বিচার চেয়ে আজ সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিবাদ দমাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে শিক্ষার্থীরা সেই তালা ভেঙে বেরিয়ে আসে। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের বাবা কি রিকশাওয়ালা?’ এবং ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’। শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, হয়রানি বন্ধ করা, পাঠদান থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুনর্বহাল এবং প্রভাবমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছে ১০ শিক্ষার্থী। সে সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত সহপাঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের অশালীন মেসেজ দিয়ে উত্যক্ত করে আসছে এবং সহপাঠীদের ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এর আগে তারা কয়েকবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। গত অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে প্রায় ৬০-৭০ জন সহপাঠী অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিকৃত ছবি ও বার্তা মুছে ফেলতে বলে এবং তাকে সতর্ক করে দেয়। আরেক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেছে, ‘(অভিযুক্ত শিক্ষার্থী) আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে কথা বলে, অশালীন মেসেজ দিয়ে বিব্রত করে। সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

এর জেরে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও এনামুল হক সজীব বিদ্যালয়ে আসেন।

এরপর ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা প্রতিবাদী ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এ সময় তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও শ্রেণিকক্ষে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়। পূজার ছুটিসহ তারা ২৫ দিন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের টিসি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক এমন একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে যেখানে অভিযুক্তকে মারধরের মিথ্যা তথ্য ছিল। এ ছাড়া অভিযোগের পক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, নিপীড়নকারী শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় প্রথমে ১০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা ও ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তের মা ও পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে তাদের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে, তার নিরপেক্ষতা নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশ্বাস দেন, কোনো ধরনের অবিচার হতে দেওয়া হবে না এবং অভিযোগ পাওয়া পরিবারগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্টো অভিযোগ তুলে বলেন, গত ৭ অক্টোবর কয়েকজন সহপাঠী তার ছেলেকে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে।

জনপ্রিয়

উচ্ছ্বাস ও নতুন প্রত্যয়ে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

উদয়ন স্কুলে ছাত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ: বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে আপত্তিকরভাবে বিকৃত করা, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ভয়াবহ হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হওয়ায় বিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই একপেশে ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ওই শিক্ষার্থীর বিচার চেয়ে আজ সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিবাদ দমাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে শিক্ষার্থীরা সেই তালা ভেঙে বেরিয়ে আসে। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের বাবা কি রিকশাওয়ালা?’ এবং ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’। শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, হয়রানি বন্ধ করা, পাঠদান থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পুনর্বহাল এবং প্রভাবমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছে ১০ শিক্ষার্থী। সে সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত সহপাঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের অশালীন মেসেজ দিয়ে উত্যক্ত করে আসছে এবং সহপাঠীদের ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এর আগে তারা কয়েকবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। গত অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে প্রায় ৬০-৭০ জন সহপাঠী অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিকৃত ছবি ও বার্তা মুছে ফেলতে বলে এবং তাকে সতর্ক করে দেয়। আরেক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেছে, ‘(অভিযুক্ত শিক্ষার্থী) আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে কথা বলে, অশালীন মেসেজ দিয়ে বিব্রত করে। সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

এর জেরে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও এনামুল হক সজীব বিদ্যালয়ে আসেন।

এরপর ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা প্রতিবাদী ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এ সময় তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও শ্রেণিকক্ষে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়। পূজার ছুটিসহ তারা ২৫ দিন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের টিসি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক এমন একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে যেখানে অভিযুক্তকে মারধরের মিথ্যা তথ্য ছিল। এ ছাড়া অভিযোগের পক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, নিপীড়নকারী শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় প্রথমে ১০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা ও ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তের মা ও পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে তাদের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে, তার নিরপেক্ষতা নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আশ্বাস দেন, কোনো ধরনের অবিচার হতে দেওয়া হবে না এবং অভিযোগ পাওয়া পরিবারগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্টো অভিযোগ তুলে বলেন, গত ৭ অক্টোবর কয়েকজন সহপাঠী তার ছেলেকে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে।