Hi

০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানহীন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী মহলের কোনো তদবির মানহীন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় কাজে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান রক্ষা ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রচুর চাপ আসছে। কিন্তু হাসপাতাল সুবিধা নিশ্চিত না করে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা কাউকে নতুন মেডিকেল কলেজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হতে পারে না, এমন পরিস্থিতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ভৌগোলিক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ কেবল ঢাকা বিভাগেই সীমাবদ্ধ। তিনি সংসদীয় বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ তৈরির জনপ্রিয় প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন। এর বদলে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করা এখন জরুরি বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই মান বজায় না রাখলে আমাদের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। এছাড়া বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি বিদেশফেরত চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য তুলে ধরে অভিভাবকদের সতর্ক করেন তিনি। সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক।

সহকারী পুলিশ সুপার হলেন ৬৭ পরিদর্শক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মানহীন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৬:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী মহলের কোনো তদবির মানহীন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় কাজে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান রক্ষা ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রচুর চাপ আসছে। কিন্তু হাসপাতাল সুবিধা নিশ্চিত না করে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা কাউকে নতুন মেডিকেল কলেজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হতে পারে না, এমন পরিস্থিতি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ভৌগোলিক বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ কেবল ঢাকা বিভাগেই সীমাবদ্ধ। তিনি সংসদীয় বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ তৈরির জনপ্রিয় প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন। এর বদলে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করা এখন জরুরি বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই মান বজায় না রাখলে আমাদের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। এছাড়া বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি বিদেশফেরত চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য তুলে ধরে অভিভাবকদের সতর্ক করেন তিনি। সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক।