Hi

০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে সরিয়ে সরকার গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে গাদি আইজেনকট

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট পেয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। তবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি এক জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং জোটের ভেতরের শরিকদের নানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি পূরণ করাই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ঝুলিতে গেছে ১৯টি আসন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের অন্যতম একটি পথ হলো আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা।

এই দলগুলো তাকে সমর্থন দেওয়ার সুপারিশও করেছে। যদি তাদের সমর্থন পাওয়া যায়, তবে আইজেনকটের জোটের আসনসংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছাবে। তবে এই সমীকরণে বাগড়া দিচ্ছে জোটের শরিক দল ‘ইসরাইল বেইতেনু’। দলটির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সংখ্যালঘু সরকার গঠনের কট্টর বিরোধী। ফলে এই পথ বেছে নিলে আইজেনকটের নিজের জোটেই বড় ধরনের ভাঙন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।

বিকল্প হিসেবে আইজেনকটের সামনে রয়েছে অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সমর্থন। এই দুই দলের ১৩টি আসন পেলে আইজেনকটের জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পূর্ণ করতে পারে। তবে এখানেও রয়েছে বড় নীতিগত বাধা। অতি-অর্থোডক্স ইহুদি তরুণদের সামরিক সেবায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়টি থেকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে এই দলগুলো, যা আইজেনকটের জোটের অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে আইজেনকট ও তার কয়েকজন শরিক সামরিক বাহিনীতে সবার বাধ্যতামূলক সেবার বিষয়ে ছাড় দিতে অনাগ্রহী।

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে বিরোধী জোটের সমীকরণ হতে পারে। এতে মোট আসনসংখ্যা ৬৭ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইজেনকট তার নির্বাচনি প্রচারণার সময় নেতানিয়াহুকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে যোগ দেওয়ার সুযোগ তার জন্য প্রায় বন্ধই বলা চলে। এর জন্য সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে আইজেনকটকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহু পরবর্তী সুযোগ পেতে পারেন। লিকুদ পার্টি বৃহত্তম একক দল হওয়ায়, আইজেনকটের ব্যর্থতায় তিনি হয়তো বিরোধী জোটের আইনপ্রণেতাদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবেন।

আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য আইন অনুযায়ী ২৮ দিন সময় পেয়েছেন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানোর ক্ষমতা রাখেন। এই সময়ের মধ্যে জোটের শরিকদের সঙ্গে মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোর সুরাহা করতে হবে তাকে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। যদি শেষ পর্যন্ত কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল না হন, তবে ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেই পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নেতানিয়াহুকে সরিয়ে সরকার গঠনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে গাদি আইজেনকট

আপডেট : ০২:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট পেয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। তবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি এক জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। টাইমস অব ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এবং জোটের ভেতরের শরিকদের নানা অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি পূরণ করাই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ঝুলিতে গেছে ১৯টি আসন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।

আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের অন্যতম একটি পথ হলো আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণ করা।

এই দলগুলো তাকে সমর্থন দেওয়ার সুপারিশও করেছে। যদি তাদের সমর্থন পাওয়া যায়, তবে আইজেনকটের জোটের আসনসংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছাবে। তবে এই সমীকরণে বাগড়া দিচ্ছে জোটের শরিক দল ‘ইসরাইল বেইতেনু’। দলটির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সংখ্যালঘু সরকার গঠনের কট্টর বিরোধী। ফলে এই পথ বেছে নিলে আইজেনকটের নিজের জোটেই বড় ধরনের ভাঙন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।

বিকল্প হিসেবে আইজেনকটের সামনে রয়েছে অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সমর্থন। এই দুই দলের ১৩টি আসন পেলে আইজেনকটের জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পূর্ণ করতে পারে। তবে এখানেও রয়েছে বড় নীতিগত বাধা। অতি-অর্থোডক্স ইহুদি তরুণদের সামরিক সেবায় বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের বিষয়টি থেকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে এই দলগুলো, যা আইজেনকটের জোটের অনেকের কাছেই অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে আইজেনকট ও তার কয়েকজন শরিক সামরিক বাহিনীতে সবার বাধ্যতামূলক সেবার বিষয়ে ছাড় দিতে অনাগ্রহী।

জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে বিরোধী জোটের সমীকরণ হতে পারে। এতে মোট আসনসংখ্যা ৬৭ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইজেনকট তার নির্বাচনি প্রচারণার সময় নেতানিয়াহুকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে যোগ দেওয়ার সুযোগ তার জন্য প্রায় বন্ধই বলা চলে। এর জন্য সময়সীমাও বেধে দেওয়া হয়েছে আইজেনকটকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহু পরবর্তী সুযোগ পেতে পারেন। লিকুদ পার্টি বৃহত্তম একক দল হওয়ায়, আইজেনকটের ব্যর্থতায় তিনি হয়তো বিরোধী জোটের আইনপ্রণেতাদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবেন।

আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য আইন অনুযায়ী ২৮ দিন সময় পেয়েছেন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রেসিডেন্ট এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানোর ক্ষমতা রাখেন। এই সময়ের মধ্যে জোটের শরিকদের সঙ্গে মন্ত্রিসভার পদ বণ্টন ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোর সুরাহা করতে হবে তাকে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। যদি শেষ পর্যন্ত কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল না হন, তবে ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেই পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।