Hi

০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:৩৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছে

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগকারী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন তিনি। অভিযানের সময় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেখানে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতাদের তাড়া করছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করেন। ইশরাক গণমাধ্যমকে জানান, ওইদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তাকে সময় দিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘ সময় একান্তে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যোগ দিতে উঠে গেলে ইশরাক পাশের কক্ষে অপেক্ষা করেন। আলোচনার অসমাপ্ত অংশ শেষ করার জন্য মিটিং শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় তাকে নিজের দপ্তরে ডাকেন এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। ইশরাক আরও জানান, মিটিংয়ের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ক্যাবিনেটে তার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেছিলেন। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, কোনো দলই সাধারণত চায় না তাদের মন্ত্রিসভার সদস্য পদত্যাগ করুক।

তার দাবি, কিছু পত্রিকা সিন্ডিকেট তৈরি করে তাকে হেয় করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া বিরোধী দলের অনেক নেতাও তাকে ফোন করে সংহতি জানিয়েছেন এবং তার পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীরা তাকে ওই অবস্থানে দেখতে আগ্রহী। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

অস্ত্র প্রদর্শন প্রসঙ্গে ইশরাক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলিবর্ষণ করতে পারে—এমন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আত্মরক্ষার্থে ও জানমালের নিরাপত্তায় তিনি এবং তার নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র প্রদর্শন করেন। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

যদিও রবিবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তখন ইশরাক তা অস্বীকার করেছিলেন। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের বিদায় নিশ্চিত হলো। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা।

৩৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ডিজিটাল ভূমিসেবার সার্ভার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক

আপডেট : ০২:৩৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগকারী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন তিনি। অভিযানের সময় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেখানে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতাদের তাড়া করছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করেন। ইশরাক গণমাধ্যমকে জানান, ওইদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তাকে সময় দিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘ সময় একান্তে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যোগ দিতে উঠে গেলে ইশরাক পাশের কক্ষে অপেক্ষা করেন। আলোচনার অসমাপ্ত অংশ শেষ করার জন্য মিটিং শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় তাকে নিজের দপ্তরে ডাকেন এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। ইশরাক আরও জানান, মিটিংয়ের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে ক্যাবিনেটে তার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেছিলেন। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, কোনো দলই সাধারণত চায় না তাদের মন্ত্রিসভার সদস্য পদত্যাগ করুক।

তার দাবি, কিছু পত্রিকা সিন্ডিকেট তৈরি করে তাকে হেয় করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া বিরোধী দলের অনেক নেতাও তাকে ফোন করে সংহতি জানিয়েছেন এবং তার পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীরা তাকে ওই অবস্থানে দেখতে আগ্রহী। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

অস্ত্র প্রদর্শন প্রসঙ্গে ইশরাক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলিবর্ষণ করতে পারে—এমন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আত্মরক্ষার্থে ও জানমালের নিরাপত্তায় তিনি এবং তার নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র প্রদর্শন করেন। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

যদিও রবিবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তখন ইশরাক তা অস্বীকার করেছিলেন। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের বিদায় নিশ্চিত হলো। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা।