সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ শুক্রবার দেশে এসে পৌঁছেছে।
এদিন সকাল ৮টা ২২ মিনিটে মরদেহ বহনকারী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন, এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রিয়াদের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার বাদশা আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা শাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মরদেহ হস্তান্তরকালে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৮৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে দাফন ও যাতায়াত বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে লাশ দাফন ও যাতায়াত বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানোর কারণে বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সহায়তার বিবরণ
- বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট: শাহেদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’র পক্ষ থেকে ২৭ হাজার ৩৯৫ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৯ লাখ টাকা) রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
- পরিবারের কাছে হস্তান্তর: এই অর্থ দ্রুত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- অতিরিক্ত সুবিধা: নিহত কর্মীর বিএমইটি কার্ড বা বৈধতার প্রমাণপত্র সাপেক্ষে আরও ৩ লাখ টাকা এবং বীমা কাভারেজের শর্তপূরণ সাপেক্ষে আরও ১০ লাখ টাকা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৩টায় রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ওই হামলায় শাহেদসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। হামলায় নিহত অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি, যিনি ওমরাহ ভিসায় ছিলেন এবং ট্রানজিটে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ওই হামলায় বিভিন্ন দেশের আরও ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। তিনি ট্রানজিটে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- পাশাপাশি বীমা কাভারেজে থাকা সাপেক্ষে তার পরিবার আরও ১০ লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।
রিপোর্টার নাম: 
























