Hi

১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদানের বারা শহরে অমানবিক সংকট: দাফন হলো ৬০০ মৃত

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

সুদানের উত্তর কোর্ডোফানের বারা শহর এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে এক জনশূন্য পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে অঞ্চলটি এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-এর হামলার পর থেকে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শত শত মানুষের মরদেহ পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এমন চরম প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন ৫০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক।

বারা শহরের অলিগলি এবং গ্রাম থেকে তারা এ পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করে দাফন সম্পন্ন করেছেন। তবে স্থানীয় প্রতিরোধ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গেরিগিখ ও জাবরাত আল-শেখের মতো পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে এখনো বহু মরদেহ পড়ে আছে, যেগুলো উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবরে এলাকাটিতে চালানো গণহত্যায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। গত জুলাই মাসে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী বা এসএএফ যখন বারা শহর পুনর্দখল করে, তখন এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা মরদেহগুলো পচে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি তৈরি করেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, গত বছরের অক্টোবরে এলাকাটিতে গণহত্যা চালায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মদদপুষ্ট আরএসএফ। তরুণীদের সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করল বুরকিনা ফাসো। জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি, ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু।

তীব্র তাপদাহের মাঝে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের হাড়গোড় সংগ্রহ করে পিকআপ ভ্যানে করে গণকবর দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের কাছে পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস বা জীবাণুনাশকের মতো সুরক্ষা সরঞ্জামের মারাত্মক সংকট রয়েছে। তবুও ন্যূনতম নিজস্ব সহায়তায় তারা এই মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। চলমান এই সহিংসতায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এক কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে সুদান রূপ নিয়েছে এক মৃত্যুপুরীতে। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেলো মরক্কো। প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। গৃহযুদ্ধে সুদান যেন এক মৃত্যুপুরী, ৬০০ দাফন করলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাম অ্যারাবিক বা বাবলা আঠা সরবরাহের কেন্দ্রস্থল পশ্চিম কোর্ডোফানে এখন এসএএফ ও আরএসএফ-এর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। এসএএফ তুরস্ক ও মিসরের সামরিক সহায়তায় ওই এলাকা পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মিসরের কায়রোতে ট্রাক-বাসের সংঘর্ষ, ১৩ পর্যটক নিহত। নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ জন যাত্রী-ক্রু’র সবাই নিহত। সৌদিগামী ১৩৫ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ২০,৬৭২ যাত্রী। সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি।

অন্যদিকে, আরএসএফ তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে খার্তুম ও ওমদুরমানের মতো বড় শহরগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানামুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও সুদানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত ও ভয়ানক সব রোগব্যাধি। অন্যদিকে, কোর্ডোফান পুনরুদ্ধার ও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে রাজধানী খার্তুম, ওমদুরমানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আরএসএফ।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সুদানের বারা শহরে অমানবিক সংকট: দাফন হলো ৬০০ মৃত

আপডেট : ১০:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সুদানের উত্তর কোর্ডোফানের বারা শহর এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে এক জনশূন্য পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে অঞ্চলটি এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-এর হামলার পর থেকে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শত শত মানুষের মরদেহ পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এমন চরম প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন ৫০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক।

বারা শহরের অলিগলি এবং গ্রাম থেকে তারা এ পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করে দাফন সম্পন্ন করেছেন। তবে স্থানীয় প্রতিরোধ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গেরিগিখ ও জাবরাত আল-শেখের মতো পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে এখনো বহু মরদেহ পড়ে আছে, যেগুলো উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবরে এলাকাটিতে চালানো গণহত্যায় নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। গত জুলাই মাসে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী বা এসএএফ যখন বারা শহর পুনর্দখল করে, তখন এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা মরদেহগুলো পচে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি তৈরি করেছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, গত বছরের অক্টোবরে এলাকাটিতে গণহত্যা চালায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মদদপুষ্ট আরএসএফ। তরুণীদের সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করল বুরকিনা ফাসো। জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি, ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু।

তীব্র তাপদাহের মাঝে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের হাড়গোড় সংগ্রহ করে পিকআপ ভ্যানে করে গণকবর দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের কাছে পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস বা জীবাণুনাশকের মতো সুরক্ষা সরঞ্জামের মারাত্মক সংকট রয়েছে। তবুও ন্যূনতম নিজস্ব সহায়তায় তারা এই মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। চলমান এই সহিংসতায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এক কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে সুদান রূপ নিয়েছে এক মৃত্যুপুরীতে। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেলো মরক্কো। প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। গৃহযুদ্ধে সুদান যেন এক মৃত্যুপুরী, ৬০০ দাফন করলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাম অ্যারাবিক বা বাবলা আঠা সরবরাহের কেন্দ্রস্থল পশ্চিম কোর্ডোফানে এখন এসএএফ ও আরএসএফ-এর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। এসএএফ তুরস্ক ও মিসরের সামরিক সহায়তায় ওই এলাকা পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মিসরের কায়রোতে ট্রাক-বাসের সংঘর্ষ, ১৩ পর্যটক নিহত। নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ জন যাত্রী-ক্রু’র সবাই নিহত। সৌদিগামী ১৩৫ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ২০,৬৭২ যাত্রী। সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি।

অন্যদিকে, আরএসএফ তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে খার্তুম ও ওমদুরমানের মতো বড় শহরগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানামুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও সুদানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। দেখা দিয়েছে অজ্ঞাত ও ভয়ানক সব রোগব্যাধি। অন্যদিকে, কোর্ডোফান পুনরুদ্ধার ও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে রাজধানী খার্তুম, ওমদুরমানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আরএসএফ।