Hi

০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের এক সেশনে তিনি এ কথা বলেন। হাইকমিশনার জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এবং এর সঙ্গে আদালতও সম্পৃক্ত। তাই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি একই আইনি প্রক্রিয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। তিনি বলেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল।

শেখ হাসিনার ভারত গমন প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি। বরং তৎকালীন বাংলাদেশে সৃষ্ট মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে ভারত সরকার খুব বেশি বিকল্প হাতে পায়নি। এমনকি ভারত যদি তাকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পৃথিবীর কোথাও যেন আর কখনোই নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না।

ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেন। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে অত্যন্ত গভীর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুলের সাহিত্যের মেলবন্ধনে গড়া এই সম্পর্ক ভৌগোলিক সীমারেখার চেয়েও শক্তিশালী। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ও লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক নয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো মতপার্থক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যেমন মাঝে মাঝে অমিল থাকতে পারে, দুই দেশের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু থাকা অস্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক সংলাপ, পরামর্শ ও নিয়মিত যোগাযোগ। এই সংলাপের মূল ভিত্তি হলো আস্থা, যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অটুট রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

জনপ্রিয়

বেনাপোলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মায়েদের সম্মাননা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট : ০৪:২৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের এক সেশনে তিনি এ কথা বলেন। হাইকমিশনার জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এবং এর সঙ্গে আদালতও সম্পৃক্ত। তাই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি একই আইনি প্রক্রিয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। তিনি বলেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল।

শেখ হাসিনার ভারত গমন প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি। বরং তৎকালীন বাংলাদেশে সৃষ্ট মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে ভারত সরকার খুব বেশি বিকল্প হাতে পায়নি। এমনকি ভারত যদি তাকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পৃথিবীর কোথাও যেন আর কখনোই নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না।

ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেন। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে অত্যন্ত গভীর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বাইরের বিশ্বের পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুলের সাহিত্যের মেলবন্ধনে গড়া এই সম্পর্ক ভৌগোলিক সীমারেখার চেয়েও শক্তিশালী। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ও লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক এক নয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তারা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যেকোনো মতপার্থক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যেমন মাঝে মাঝে অমিল থাকতে পারে, দুই দেশের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু থাকা অস্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এসব সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক সংলাপ, পরামর্শ ও নিয়মিত যোগাযোগ। এই সংলাপের মূল ভিত্তি হলো আস্থা, যা ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অটুট রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।