Hi

০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশ্নফাঁস: সন্দেহের তীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকে

সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। মোট ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী এই বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত শনিবার রাজধানীজুড়ে ৯৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করতে হয়েছে। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ করা হবে ২৪২ জনকে। নানা কারণে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীদের পাস করানোর নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের কাছে পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে কিছু চাকরিপ্রার্থীর তালিকা দিয়ে তাদের উত্তীর্ণ করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে। এসবের পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসছে। সেখান থেকেই সবার হাতে হাতে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় একেবারে শেষমুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। বুঝতে পারছেন না কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার জটিলতায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গত ২০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেটি সংশোধন করা হয়। এদিকে গত ৫ জুলাই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মো. সাইফুজ্জামানকে সরিয়ে সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বদলি হয়ে আসা যুগ্ম সচিব ডি এম আতিকুর রহমান অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বুঝে নেন। তিনি পাঁচ সদস্যের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

শুক্রবার রাতে মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলার ভাড়া অফিসে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা এই প্রক্রিয়ায় কমিটির পাঁচ সদস্য ছাড়াও ১৮ থেকে ২০ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা এবং তিনি এর আগে নির্বাচন কমিশনে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কোনো তদবির আমলে নেননি বলে জানিয়েছেন। অনেকে তাঁর মুঠোফোনে প্রবেশপত্র পাঠিয়েছেন; কিন্তু তিনি সেগুলো আমলে নেননি।

অন্যদিকে, কমিটির আরেক সদস্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান এ ঘটনায় নিজের বিব্রতকর অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, প্রশ্ন তৈরির সময় সবাই একসঙ্গে ছিলেন এবং বাইরে থেকে কেউ সেখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না।

ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, অধিদপ্তরের একজন পরিচালক এবং সদস্যসচিব হিসেবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন)। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়ানোর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক সচিব ও বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, অধিদপ্তরের নিজস্ব লোকজন ছাড়া এমন প্রশ্নফাঁস অসম্ভব। তিনি তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ সেখানে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তার মতে, মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা থাকলে কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব।

এদিকে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশ্নফাঁস: সন্দেহের তীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকে

আপডেট : ০১:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। মোট ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী এই বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত শনিবার রাজধানীজুড়ে ৯৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করতে হয়েছে। সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ করা হবে ২৪২ জনকে। নানা কারণে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীদের পাস করানোর নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের কাছে পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে কিছু চাকরিপ্রার্থীর তালিকা দিয়ে তাদের উত্তীর্ণ করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে। এসবের পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসছে। সেখান থেকেই সবার হাতে হাতে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় একেবারে শেষমুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। বুঝতে পারছেন না কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার জটিলতায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর গত ২০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেটি সংশোধন করা হয়। এদিকে গত ৫ জুলাই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মো. সাইফুজ্জামানকে সরিয়ে সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বদলি হয়ে আসা যুগ্ম সচিব ডি এম আতিকুর রহমান অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বুঝে নেন। তিনি পাঁচ সদস্যের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

শুক্রবার রাতে মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলার ভাড়া অফিসে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা এই প্রক্রিয়ায় কমিটির পাঁচ সদস্য ছাড়াও ১৮ থেকে ২০ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা এবং তিনি এর আগে নির্বাচন কমিশনে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কোনো তদবির আমলে নেননি বলে জানিয়েছেন। অনেকে তাঁর মুঠোফোনে প্রবেশপত্র পাঠিয়েছেন; কিন্তু তিনি সেগুলো আমলে নেননি।

অন্যদিকে, কমিটির আরেক সদস্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান এ ঘটনায় নিজের বিব্রতকর অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, প্রশ্ন তৈরির সময় সবাই একসঙ্গে ছিলেন এবং বাইরে থেকে কেউ সেখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না।

ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, অধিদপ্তরের একজন পরিচালক এবং সদস্যসচিব হিসেবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন)। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়ানোর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক সচিব ও বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর আবদুল আউয়াল মজুমদারের মতে, অধিদপ্তরের নিজস্ব লোকজন ছাড়া এমন প্রশ্নফাঁস অসম্ভব। তিনি তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ সেখানে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তার মতে, মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা থাকলে কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব।

এদিকে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।