Hi

০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের শীর্ষে: উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা ও সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি ও ইরানের সাথে উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

বাজারের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

দিনের একটি পর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। সমান্তরালভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে স্থিত হয়েছে। অক্টোবর মাসজুড়েই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে মাস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলারেও পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা

  • হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী সুপারট্যাংকারকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
  • ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মাত্র একদিনেই একাধিক বড় ট্যাংকারকে ঘিরে চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
  • আইআরজিসির ভাষ্যমতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পথে যাতায়াতের সময় অন্তত দুটি ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির জটিলতা তেলের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা না কমলে জ্বালানি তেলের এই চড়া দর আগামীতে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাজার পরিস্থিতির ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাকিস্তানের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের শীর্ষে: উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে

আপডেট : ০৮:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতা ও সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি ও ইরানের সাথে উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

বাজারের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

দিনের একটি পর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। সমান্তরালভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে স্থিত হয়েছে। অক্টোবর মাসজুড়েই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে মাস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলারেও পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা

  • হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী সুপারট্যাংকারকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
  • ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মাত্র একদিনেই একাধিক বড় ট্যাংকারকে ঘিরে চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
  • আইআরজিসির ভাষ্যমতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পথে যাতায়াতের সময় অন্তত দুটি ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির জটিলতা তেলের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা না কমলে জ্বালানি তেলের এই চড়া দর আগামীতে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাজার পরিস্থিতির ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখছে।