Hi

০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলে হারানোর শোক সামলে মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনে মা

পুত্রশোকে কাতর মন নিয়ে মেয়ের সাফল্যের গর্ব উদযাপন করতে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হাজির হয়েছিলেন নাজমা আক্তার। তার ছোট মেয়ে মানসী হক বাঁধন মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। নাজমা আক্তারের বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন, তবে নয় মাস আগে এক অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তাকে হারিয়ে নাজমা এখন গভীর শোকে নিমজ্জিত। সেই বিষাদ বুকে চেপেই মেয়ের সাফল্যের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি যোগ দিয়েছেন। ৯ মাস আগে তার অস্বাভাবিক মৃত্যু বড় ধাক্কা হয়ে আসে। নাজমা আক্তার বলেন, ‘৯ মাস হলো আমার ছেলে ঢাকায় মারা গেছে। আজ এখানে এসেছি ছোট মেয়ে বাঁধনকে নিয়ে। কেউ মা-বাবার সঙ্গে, কেউ সহপাঠীদের নিয়ে আসে। কেউ কেউ দল বেঁধে ছবি ও সেলফি তুলছিল।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো ও। এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মেহেরপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল নয়টা থেকেই কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় পর দেখা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দারুণ উচ্ছ্বাস দেখা যায়, যা অনেকের সেলফি ও ছবিতে ধরা পড়ে। এই সাফল্য উদ্‌যাপন করতে আজ শুক্রবার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন শিখো– জিপিএ–৫ সংবর্ধনায়।

সকাল দশটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে জেলা বন্ধুসভা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আমিন, সাবেক অধ্যাপক নুরুল আহমেদ এবং রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সৎ, বিবেকবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

আলোচনায় বক্তারা আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে শেখায়। তাই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তারা। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিজস্ব অনুভূতির কথা জানায় জান্নাতুল নাইমা ডোনা ও রামিছা তাবাসসুম। এছাড়া অভিভাবক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আমজাদ হোসেন, যার মেয়ে সামিয়া আফরিন জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পুরো আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে মেহেরপুর বন্ধুসভা ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে ‘না’ বলার শপথ বাক্য পাঠ করান।

এই সংবর্ধনা আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল শিখো এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে ছিল বিকাশ। এছাড়া কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।

জনপ্রিয়

যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ছেলে হারানোর শোক সামলে মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনে মা

আপডেট : ০৬:১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পুত্রশোকে কাতর মন নিয়ে মেয়ের সাফল্যের গর্ব উদযাপন করতে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হাজির হয়েছিলেন নাজমা আক্তার। তার ছোট মেয়ে মানসী হক বাঁধন মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। নাজমা আক্তারের বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন, তবে নয় মাস আগে এক অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তাকে হারিয়ে নাজমা এখন গভীর শোকে নিমজ্জিত। সেই বিষাদ বুকে চেপেই মেয়ের সাফল্যের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি যোগ দিয়েছেন। ৯ মাস আগে তার অস্বাভাবিক মৃত্যু বড় ধাক্কা হয়ে আসে। নাজমা আক্তার বলেন, ‘৯ মাস হলো আমার ছেলে ঢাকায় মারা গেছে। আজ এখানে এসেছি ছোট মেয়ে বাঁধনকে নিয়ে। কেউ মা-বাবার সঙ্গে, কেউ সহপাঠীদের নিয়ে আসে। কেউ কেউ দল বেঁধে ছবি ও সেলফি তুলছিল।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো ও। এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মেহেরপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল নয়টা থেকেই কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় পর দেখা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দারুণ উচ্ছ্বাস দেখা যায়, যা অনেকের সেলফি ও ছবিতে ধরা পড়ে। এই সাফল্য উদ্‌যাপন করতে আজ শুক্রবার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন শিখো– জিপিএ–৫ সংবর্ধনায়।

সকাল দশটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে জেলা বন্ধুসভা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আমিন, সাবেক অধ্যাপক নুরুল আহমেদ এবং রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সৎ, বিবেকবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

আলোচনায় বক্তারা আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে শেখায়। তাই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তারা। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিজস্ব অনুভূতির কথা জানায় জান্নাতুল নাইমা ডোনা ও রামিছা তাবাসসুম। এছাড়া অভিভাবক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আমজাদ হোসেন, যার মেয়ে সামিয়া আফরিন জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পুরো আয়োজনের বিভিন্ন পর্বে মেহেরপুর বন্ধুসভা ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে ‘না’ বলার শপথ বাক্য পাঠ করান।

এই সংবর্ধনা আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল শিখো এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে ছিল বিকাশ। এছাড়া কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।