টানা তিন দিনের টানা বর্ষণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার অঞ্চলটিকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে নগরীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে শহরের রাস্তাঘাট ও খালগুলো উপচে পড়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। খাল ও সড়কের পাশের বহু বাড়িঘর ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে।
বন্যার কারণে প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বহু চালক গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গভর্নর চাদচার্ট জানান, নগরীর পূর্বাঞ্চল এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ পাম্প ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু খালগুলো পূর্ণ থাকায় নিষ্কাশন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা খালের কাছাকাছি বসবাস করছেন তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া বাসিন্দাদের গাড়ি নিরাপদ ও উঁচুতে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক ও খালগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভর্নর চাদচার্ট বলেন, বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই, তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার পর্যন্ত পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য থাইল্যান্ডে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও নদীর পানি উপচে পড়ার বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে ভারী বর্ষণ না হলে পানি পুরোপুরি নেমে যেতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে পানি দ্রুত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন গভর্নর।
রিপোর্টার নাম: 
























