টাঙ্গাইলের নাম শুনলে প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রেশমি বা সুতি শাড়ির চিত্র। এই খ্যাতির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের পোশাক ও অনুষঙ্গের এক বিশাল বাজার নীরবে গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ফ্যাশন হাউসগুলো এখন শাড়ির পাশাপাশি ছেলেদের জন্য আরামদায়ক পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে, যা উৎসব ও সাধারণ সময়েও সমান জনপ্রিয়।
টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, যদিও শাড়ির জন্যই এই জনপদ বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তবে পুরুষদের আনস্টিচ কাপড় বা থানের চাহিদাও কোনো অংশে কম নয়। স্থানীয় তাঁতিদের তৈরি কাপড়ের বুনন অত্যন্ত আরামদায়ক হওয়ায় ক্রেতারা এখান থেকে থান কাপড় কিনে নিজেদের পছন্দমতো পাঞ্জাবি, শার্ট বা ফতুয়া তৈরি করিয়ে নিতে পারছেন। এ ধরনের চাহিদাই টাঙ্গাইলের পুরুষ পোশাকের বাজারকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করছে।
তাঁতের কাপড়ে বৈচিত্র্য আনতে গামছার চেক থেকে অনুপ্রাণিত গাঢ় নীল রঙের রেগুলার ফিট পাঞ্জাবি এখন অনেকের নজর কাড়ছে। বিশেষ বুনন কৌশলের কারণে এই পাঞ্জাবি পরে দীর্ঘসময় আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও, টাঙ্গাইলের মার্সেরাইজড কটন দিয়ে তৈরি পাঞ্জাবিগুলো দেখতে অনেকটা সিল্কের মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সুতা উন্নত করায় এসব পোশাক উৎসবের আমেজেও দারুণ মানিয়ে যায়।
তরুণদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় ডিজাইনাররা টাঙ্গাইলের থান কাপড়ে টাইডাইয়ের কাজ করছেন। হাফহাতার শার্ট কিংবা পিওর সুতির ফতুয়াগুলোতে সাদার ওপর হলদেটে বা নান্দনিক নকশা ক্যাজুয়াল লুকের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া কুমুদিনীর মতো প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের চিরায়ত বুনন কৌশলের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে। পাঞ্জাবির জমিনে বুটি নকশা এবং বাটন প্লেটে টাঙ্গাইল শাড়ির পাড় থেকে অনুপ্রাণিত জ্যামিতিক কারুকাজ পোশাকটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।
ফ্যাশনসচেতন অনেকের কাছেই টাঙ্গাইলের এই পোশাকগুলো এখন নিয়মিত পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল এ ধরনের পোশাকের নান্দনিকতা নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এখন শুধু নারীদের সাজসজ্জা নয়, বরং পুরুষদের আধুনিক ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার নাম: 

























