Hi

০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনয় ছাড়িয়ে গানেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন জাফর ইকবাল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে

আশির দশকের রোমান্টিক ও স্টাইলিশ নায়ক হিসেবে পরিচিত জাফর ইকবালের শিল্পীসত্তা কেবল অভিনয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সংগীতের প্রতি তার অনুরাগ ছিল ছোটবেলা থেকেই। বড় বোন শাহনাজ রহমত উল্লাহ এবং বড় ভাই সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠায় সংগীতের আবহ তাকে শৈশব থেকেই প্রভাবিত করেছিল। বাড়িতে গানের আসর বসলে তিনি বোনের সঙ্গে তবলা বাজাতেন, আবার গিটার হাতে নিজেও সুর তুলতেন। ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া, যে কারণে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিআরটিএ। মাহফুজ আনামের কলাম / গণমাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করবে খসড়া সাইবার আইন। স্টাইলিশ ও রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই জাফর ইকবালকে বেশি মনে রেখেছেন দর্শক। অভিনয়ের পাশাপাশি গানও ছিল তার শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৯৬৬ সালে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ড। সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির গায়কী ও পরিবেশনা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রের জগতে তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন। ১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কবরী। বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে ফারহানের। এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের চমক। গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন, ব্যান্ডও করেছিলেন।

চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় অভিনয়ের পর ১৯৭৮ সালে দারশিকো পরিচালিত ‘ফকির মজনু শাহ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন। রুনা লায়লার সঙ্গে গাওয়া ‘প্রেমের আগুনে জ্বলে গেলাম সজনী গো’ গানটির সুর করেছিলেন আলাউদ্দীন আলী এবং কথা লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এর ছয় বছর পর ১৯৮৪ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বদনাম’ সিনেমায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্লেব্যাক করেন। ‘হয় যদি বদনাম হোক, আরও আমি তো এখন আর নই কারো’ গানটির সুরকার ছিলেন আনোয়ার পারভেজ এবং গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। চলচ্চিত্রে তার প্লেব্যাকের সংখ্যা বেশি নয়, তবে যে কটি গান গেয়েছেন, সেগুলো তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার একটি দিক তুলে ধরেছে।

প্লেব্যাকের পাশাপাশি আধুনিক গানেও তার কণ্ঠ ছিল মুগ্ধকর। বিটিভির ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি পরিবেশন করেছিলেন। এ ছাড়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরনি’ গানটিও জনপ্রিয়তা পায়। আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে তার একটি অডিও অ্যালবামও বাজারে এসেছিল।

অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ড্যাশিং নায়ক হিসেবে দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে ‘নয়নের আলো’সহ একাধিক সিনেমায় তার রোমান্টিক অভিনয় তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’ ও ‘উসিলা’র মতো নাম।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই গুণী শিল্পী। আজ তার জন্মদিন। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জাফর ইকবাল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অভিনয় ছাড়িয়ে গানেও মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন জাফর ইকবাল

আপডেট : ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশির দশকের রোমান্টিক ও স্টাইলিশ নায়ক হিসেবে পরিচিত জাফর ইকবালের শিল্পীসত্তা কেবল অভিনয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সংগীতের প্রতি তার অনুরাগ ছিল ছোটবেলা থেকেই। বড় বোন শাহনাজ রহমত উল্লাহ এবং বড় ভাই সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠায় সংগীতের আবহ তাকে শৈশব থেকেই প্রভাবিত করেছিল। বাড়িতে গানের আসর বসলে তিনি বোনের সঙ্গে তবলা বাজাতেন, আবার গিটার হাতে নিজেও সুর তুলতেন। ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া, যে কারণে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিআরটিএ। মাহফুজ আনামের কলাম / গণমাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করবে খসড়া সাইবার আইন। স্টাইলিশ ও রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই জাফর ইকবালকে বেশি মনে রেখেছেন দর্শক। অভিনয়ের পাশাপাশি গানও ছিল তার শিল্পীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৯৬৬ সালে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ড। সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির গায়কী ও পরিবেশনা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রের জগতে তিনি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন। ১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কবরী। বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হচ্ছে ফারহানের। এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে হারিয়ে নেপালের চমক। গিটার বাজিয়ে গান গাইতেন, ব্যান্ডও করেছিলেন।

চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় অভিনয়ের পর ১৯৭৮ সালে দারশিকো পরিচালিত ‘ফকির মজনু শাহ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো প্লেব্যাক করেন। রুনা লায়লার সঙ্গে গাওয়া ‘প্রেমের আগুনে জ্বলে গেলাম সজনী গো’ গানটির সুর করেছিলেন আলাউদ্দীন আলী এবং কথা লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এর ছয় বছর পর ১৯৮৪ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বদনাম’ সিনেমায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্লেব্যাক করেন। ‘হয় যদি বদনাম হোক, আরও আমি তো এখন আর নই কারো’ গানটির সুরকার ছিলেন আনোয়ার পারভেজ এবং গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। চলচ্চিত্রে তার প্লেব্যাকের সংখ্যা বেশি নয়, তবে যে কটি গান গেয়েছেন, সেগুলো তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার একটি দিক তুলে ধরেছে।

প্লেব্যাকের পাশাপাশি আধুনিক গানেও তার কণ্ঠ ছিল মুগ্ধকর। বিটিভির ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি পরিবেশন করেছিলেন। এ ছাড়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরনি’ গানটিও জনপ্রিয়তা পায়। আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে তার একটি অডিও অ্যালবামও বাজারে এসেছিল।

অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ড্যাশিং নায়ক হিসেবে দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে ‘নয়নের আলো’সহ একাধিক সিনেমায় তার রোমান্টিক অভিনয় তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’ ও ‘উসিলা’র মতো নাম।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই গুণী শিল্পী। আজ তার জন্মদিন। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জাফর ইকবাল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন।