Hi

০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিম অকাল প্রয়াণ: শোকাহত পরিবার ও পুলিশের তদন্তের আপডেট

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়ে ওঠা ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহারিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক প্রয়াণ পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। অপ্রতিমের মা বলেন, তিনি সন্তানকে বিভেদহীন মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে বড় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নির্মমভাবে তাকে কেড়ে নেওয়া হলো।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, একটি আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে শিশুটিকে প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)-এর বাসা থেকে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে আসে যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ডেলিভারিম্যানসহ ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া তথ্য গোপনের অভিযোগে মো. সিয়াম (১৯) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

অপ্রতিমের বাবার ব্যবসায় যোগ দেওয়া সেই ডেলিভারিম্যান ঘটনার সময় তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে অপ্রতিমকে খুঁজে পাওয়ার ভান করে পরিবারের সাথে প্রতারণা করে। অপ্রতিমের বাবা জানান, তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, যাদের তিনি চেনেন তাদের হাতেই তার সন্তান এমন পরিস্থিতির শিকার হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠা অপ্রতিমকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার মায়ের সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, নাহিদা বেগম তার সন্তানকে কেবল মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে শিখিয়েছিলেন। অপ্রতিম ছিল মানবিক গুণসম্পন্ন এক শিশু, যে সবসময় অন্যের বিপদে এগিয়ে আসতে পছন্দ করত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা জানান, অপ্রতিম পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কাজেও যুক্ত ছিল। তার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। গন্ধমতি গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে হারিয়ে একজন অকৃত্রিম মানবিক মুখকে হারালেন বলে মনে করছেন।

পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এর বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকা সকলকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দূরপাল্লা ও মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়লো ১৭ পয়সা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংকট তৈরি করা যায় না: তথ্য উপদেষ্টা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেও তো সন্তানকে ফিরে পাব না’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ময়মনসিংহে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিনের ফিটনেস পরীক্ষায় চারজন ফেল, ফল ‘সন্তোষজনক’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমার মাত্র ১৩ বছরের সন্তান, যাকে খাবার মুখে তুলে না দিলে খেতে পারত না, তাকে মেরে ফেলার কারণটা জানতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত কয়েক মাস ধরে সে সাধারণত শুধু শুক্রবারেই বাইরে বের হতো।

জনপ্রিয়

ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে অনুমোদন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অপ্রতিম অকাল প্রয়াণ: শোকাহত পরিবার ও পুলিশের তদন্তের আপডেট

আপডেট : ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়ে ওঠা ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহারিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক প্রয়াণ পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। অপ্রতিমের মা বলেন, তিনি সন্তানকে বিভেদহীন মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে বড় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নির্মমভাবে তাকে কেড়ে নেওয়া হলো।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, একটি আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে শিশুটিকে প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)-এর বাসা থেকে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে আসে যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ডেলিভারিম্যানসহ ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া তথ্য গোপনের অভিযোগে মো. সিয়াম (১৯) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

অপ্রতিমের বাবার ব্যবসায় যোগ দেওয়া সেই ডেলিভারিম্যান ঘটনার সময় তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে অপ্রতিমকে খুঁজে পাওয়ার ভান করে পরিবারের সাথে প্রতারণা করে। অপ্রতিমের বাবা জানান, তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, যাদের তিনি চেনেন তাদের হাতেই তার সন্তান এমন পরিস্থিতির শিকার হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠা অপ্রতিমকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার মায়ের সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, নাহিদা বেগম তার সন্তানকে কেবল মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে শিখিয়েছিলেন। অপ্রতিম ছিল মানবিক গুণসম্পন্ন এক শিশু, যে সবসময় অন্যের বিপদে এগিয়ে আসতে পছন্দ করত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা জানান, অপ্রতিম পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কাজেও যুক্ত ছিল। তার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। গন্ধমতি গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে হারিয়ে একজন অকৃত্রিম মানবিক মুখকে হারালেন বলে মনে করছেন।

পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এর বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকা সকলকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দূরপাল্লা ও মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়লো ১৭ পয়সা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংকট তৈরি করা যায় না: তথ্য উপদেষ্টা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেও তো সন্তানকে ফিরে পাব না’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ময়মনসিংহে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম দিনের ফিটনেস পরীক্ষায় চারজন ফেল, ফল ‘সন্তোষজনক’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমার মাত্র ১৩ বছরের সন্তান, যাকে খাবার মুখে তুলে না দিলে খেতে পারত না, তাকে মেরে ফেলার কারণটা জানতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত কয়েক মাস ধরে সে সাধারণত শুধু শুক্রবারেই বাইরে বের হতো।