Hi

১০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেন জিতলেন ‘বরফের মতো শান্ত’ রিবাকিনা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ জন দেখেছে

টেনিস কোর্টে চরম উত্তেজনার মুহূর্তে যেখানে অনেক খেলোয়াড়ই চাপের মুখে খেই হারিয়ে ফেলেন, সেখানে পাথরের মতো অটল থাকেন এলেনা রিবাকিনা। আমেরিকান তারকা কোকো গফ যাকে ‘বরফের মতো শান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, সেই রিবাকিনা এখন নারী টেনিসের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। ইউএস ওপেনের ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করলেন। এই জয় তার ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতা যোগ করেছে।

রিবাকিনার খেলার চেয়েও বেশি চর্চায় থাকে তার আবেগহীন ও নীরব ব্যক্তিত্ব। ২০২২ সালে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে উইম্বলডন জয়ের পরও তার মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। অন্য খেলোয়াড়দের মতো কোর্টে শুয়ে পড়া কিংবা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে উল্লাস করার বদলে তিনি শান্তভাবে চেয়ারের দিকে হেঁটে গিয়েছিলেন। সে সময় তার পরাজিত প্রতিপক্ষ ওন্স জাবেউ মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমাকে ওকে ঠিকঠাক উদযাপন করা শেখাতে হবে!’

মস্কোতে জন্মগ্রহণকারী রিবাকিনা অবশ্য মনে করেন, এই শান্তভাব তার খেলার একটি বিশেষ কৌশল। তিনি বলেন, ‘আমার ভেতরে অনেক অনুভূতি থাকলেও আমি তা বাইরে প্রকাশ করি না। প্রতিপক্ষ যেন বুঝতে না পারে আমি কখন চাপে আছি বা হতাশ হচ্ছি—সেটিই আমার মূল লক্ষ্য।’ এই আবেগ নিয়ন্ত্রণই তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জয়ী হতে সহায়তা করে।

রিবাকিনার ক্যারিয়ার মোড় নেয় ২০১৮ সালে, যখন তিনি রাশিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে কাজাখস্তানের প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। সেই সময় র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৭৫ নম্বর অবস্থানে থাকা একজন সাধারণ খেলোয়াড় থেকে আজকের বিশ্বসেরা হওয়ার যাত্রায় কাজাখস্তান টেনিস ফেডারেশনের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। দেশটির শত শত শিশু এখন তাকে আদর্শ মেনে টেনিস খেলা শুরু করেছে, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি।

অথচ ছোটবেলায় পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার কোনো লক্ষ্যই ছিল না রিবাকিনার। স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে কেবল আনন্দের জন্য খেলতেন তিনি। সেই সাধারণ কিশোরী থেকে আজ তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের অধিকারী হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। পাওয়ার গেম এবং নিখুঁত সার্ভিসের পাশাপাশি এই মানসিক দৃঢ়তাই রিবাকিনাকে টেনিসের অনন্য চূড়ায় বসিয়েছে।

টেনিস ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই সাফল্যের মাঝেও বিশ্বজুড়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদও রয়েছে। কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩৯৮ জন মানুষ, যা বিশ্বজনীন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ গেল ৩৩৯৮ জনের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালে যখন উইম্বলডন জিতে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম পান, তখনও তার মধ্যে ছিল না বড় কোনো উদযাপনের ছাপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সংকট বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান, সমর্থন জানাল ইরান-আমিরাত।

জনপ্রিয়

আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেন জিতলেন ‘বরফের মতো শান্ত’ রিবাকিনা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেন জিতলেন ‘বরফের মতো শান্ত’ রিবাকিনা

আপডেট : ১০:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেনিস কোর্টে চরম উত্তেজনার মুহূর্তে যেখানে অনেক খেলোয়াড়ই চাপের মুখে খেই হারিয়ে ফেলেন, সেখানে পাথরের মতো অটল থাকেন এলেনা রিবাকিনা। আমেরিকান তারকা কোকো গফ যাকে ‘বরফের মতো শান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, সেই রিবাকিনা এখন নারী টেনিসের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। ইউএস ওপেনের ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করলেন। এই জয় তার ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতা যোগ করেছে।

রিবাকিনার খেলার চেয়েও বেশি চর্চায় থাকে তার আবেগহীন ও নীরব ব্যক্তিত্ব। ২০২২ সালে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে উইম্বলডন জয়ের পরও তার মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। অন্য খেলোয়াড়দের মতো কোর্টে শুয়ে পড়া কিংবা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে উল্লাস করার বদলে তিনি শান্তভাবে চেয়ারের দিকে হেঁটে গিয়েছিলেন। সে সময় তার পরাজিত প্রতিপক্ষ ওন্স জাবেউ মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমাকে ওকে ঠিকঠাক উদযাপন করা শেখাতে হবে!’

মস্কোতে জন্মগ্রহণকারী রিবাকিনা অবশ্য মনে করেন, এই শান্তভাব তার খেলার একটি বিশেষ কৌশল। তিনি বলেন, ‘আমার ভেতরে অনেক অনুভূতি থাকলেও আমি তা বাইরে প্রকাশ করি না। প্রতিপক্ষ যেন বুঝতে না পারে আমি কখন চাপে আছি বা হতাশ হচ্ছি—সেটিই আমার মূল লক্ষ্য।’ এই আবেগ নিয়ন্ত্রণই তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জয়ী হতে সহায়তা করে।

রিবাকিনার ক্যারিয়ার মোড় নেয় ২০১৮ সালে, যখন তিনি রাশিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে কাজাখস্তানের প্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। সেই সময় র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৭৫ নম্বর অবস্থানে থাকা একজন সাধারণ খেলোয়াড় থেকে আজকের বিশ্বসেরা হওয়ার যাত্রায় কাজাখস্তান টেনিস ফেডারেশনের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। দেশটির শত শত শিশু এখন তাকে আদর্শ মেনে টেনিস খেলা শুরু করেছে, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি।

অথচ ছোটবেলায় পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার কোনো লক্ষ্যই ছিল না রিবাকিনার। স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে কেবল আনন্দের জন্য খেলতেন তিনি। সেই সাধারণ কিশোরী থেকে আজ তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের অধিকারী হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। পাওয়ার গেম এবং নিখুঁত সার্ভিসের পাশাপাশি এই মানসিক দৃঢ়তাই রিবাকিনাকে টেনিসের অনন্য চূড়ায় বসিয়েছে।

টেনিস ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই সাফল্যের মাঝেও বিশ্বজুড়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদও রয়েছে। কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩৯৮ জন মানুষ, যা বিশ্বজনীন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ গেল ৩৩৯৮ জনের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালে যখন উইম্বলডন জিতে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম পান, তখনও তার মধ্যে ছিল না বড় কোনো উদযাপনের ছাপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সংকট বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান, সমর্থন জানাল ইরান-আমিরাত।