Hi

১১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের কারাদণ্ড

লালমনিরহাটের আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় সহায়তার দায়ে বিধান চন্দ্রের বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিক নরম দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নন্দিনীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধান চন্দ্রকে আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মামলার নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদালত বিধান চন্দ্রকে হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা-মাকে মরদেহ গুমের অপরাধে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আদালতের এই রায়ে নিহত শিশুর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। রায়ের পর নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে আদালতের এই দ্রুত বিচার ও রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, বাবা-মায়ের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৩:১৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

লালমনিরহাটের আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় সহায়তার দায়ে বিধান চন্দ্রের বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি অস্বাভাবিক নরম দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নন্দিনীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধান চন্দ্রকে আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মামলার নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদালত বিধান চন্দ্রকে হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা-মাকে মরদেহ গুমের অপরাধে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আদালতের এই রায়ে নিহত শিশুর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। রায়ের পর নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে আদালতের এই দ্রুত বিচার ও রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।