Hi

০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে নতুন অধিদপ্তর গড়ার পরিকল্পনা

গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে গুম, খুন, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীদের সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। গত ২৩ আগস্ট, রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হয়।

সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তাদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পঙ্গুত্ব কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো গোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো বর্বরতার মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সভায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের অবসান ঘটিয়ে ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পরবর্তী সময়ে ভোটের অধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক আদর্শকে পদদলিত করা হয়েছে। যারা বাংলাদেশের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন বা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা

মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমিডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এই লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সভায় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একট।

  1. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।
  2. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।
  3. ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এসংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।
জনপ্রিয়

অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে নতুন অধিদপ্তর গড়ার পরিকল্পনা

আপডেট : ০৮:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে গুম, খুন, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীদের সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। গত ২৩ আগস্ট, রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হয়।

সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তাদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পঙ্গুত্ব কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো গোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো বর্বরতার মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সভায় বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের অবসান ঘটিয়ে ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পরবর্তী সময়ে ভোটের অধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক আদর্শকে পদদলিত করা হয়েছে। যারা বাংলাদেশের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন বা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা

মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে এই নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমিডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে এই লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সভায় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—মানুষ স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একট।

  1. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।
  2. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা।
  3. ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলিতে এসংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।