হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরায় শুরু করা সহজ হবে বলে জানিয়েছে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল-আনসারি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দোহা বর্তমানে ওমান ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও ওমান উভয় দেশেরই এই প্রণালিতে উপকূল থাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা এর ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নৌ চলাচলের রুটের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে উভয় দেশ এরই মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
তবে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও জাহাজ চলাচলের নিয়মকানুন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। গত জুনে দুপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এর আগে স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না।
বর্তমানে ইরান হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য পূর্বানুমতি ও ট্রানজিট ফি প্রদানের শর্ত আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করছে। অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজে ইরান হামলাও চালিয়েছে। এর মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা গুরুতরভাবে চলমান রয়েছে এবং একটি যৌথ বিবৃতির খসড়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিনিময় চলছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ নিয়ে সমঝোতার পথে ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে বোমা হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতাকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে কাতার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব দাবির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 























