Hi

১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন কার্যক্রম নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের প্রকাশ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র–পরবর্তী ইরানের সম্ভাব্য শীর্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র সমালোচনা। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে দাবি করা হলেও, এর ভেতরের বিভিন্ন তথ্য এবং কৌশলগত অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় যে, বুদাপেস্টে গোপন বৈঠক, মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তেহরানে বোমা হামলার শিকার আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে নাটকীয় উদ্ধার অভিযানের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁকে ইরানের ভেতরেই মোসাদের একটি গোপন সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কৌশল এবং বাস্তব কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করলে এই বর্ণনাগুলো কাল্পনিক গল্পের মতো শোনায়। পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত গোপন অভিযানগুলো অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়ায়ী হয়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন নাটকীয়তা এবং নাটকীয় পলায়নের এমন সুবিন্যস্ত চিত্রপটের কোনো বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাছাড়া, ইরানের জটিল ক্ষমতার কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে যাঁদের নূন্যতম ধারণা আছে, তাঁরা জানেন যে দেশটির মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি কখনোই প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে না। প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে। ইসরায়েল যদি সত্যিই ইরানের উচ্চপর্যায়ে কোনো ‘অ্যাসেট’ বা গুপ্তচর তৈরি করতে চাইত, তবে তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কিংবা আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা। তা ছাড়া, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত পরিচিত এবং চরম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে এমন একটি সংবেদনশীল পদের জন্য নির্বাচন করার বিষয়টি গোয়েন্দা কৌশলগতভাবে চরম বোকামি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এলিট ৮২০০ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হানান গেফেনসহ অনেক গোয়েন্দা পেশাদার এই খবরের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, মোসাদের বর্তমান কোনো প্রধান ব্যক্তিগতভাবে একজন লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এমন ঝুঁকি কোনো পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থা নেয় না। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির মতো একটি মিত্র দেশের সরকারের মাধ্যমে জলবায়ু সম্মেলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করার দাবিটি আরও বেশি অবাস্তব ও হাস্যকর। হাঙ্গেরির বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য অন্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বা প্রকাশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক অতীত এবং তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এই প্রতিবেদনের সত্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। নিজের আট বছরের শাসনামলে তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট অস্বীকার করেছিলেন, ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে জোরদার করেছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি একজন উগ্র ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি গোয়েন্দারা যদি শাসনব্যবস্থার পতনের পর ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের জন্য কাউকে খুঁজতে থাকেন, তবে সেই তালিকার শেষ নামটিও আহমাদিনেজাদ হওয়ার কথা নয়। নিজের দেশেই একাধিকবার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত এবং সংস্কারপন্থী ও উগ্রপন্থী—উভয় পক্ষের কাছেই অবিশ্বস্ত এক নেতার পেছনে এত বড় বিনিয়োগ করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

ইতালি সরকারের সাবেক কূটনীতিক এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্কো কার্নেলোস মিডলইস্ট আই-তে প্রকাশিত তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, শক্তিশালী কোনো বিকল্প ছাড়া খামেনি সরকারের পতন ঘটালে ক্ষমতা পশ্চিমামুখী কারও হাতে না গিয়ে বরং রিভোল্যুশনারি গার্ডসের হাতেই চলে যেতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। অন্যদিকে, আহমাদিনেজাদের দপ্তর থেকে এই প্রতিবেদনটিকে ‘হলিউড ধাঁচের গল্প’ ও মনগড়া বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, এই প্রতিবেদনটি বেনামি মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এতে কোনো verifiable বা যাচাইযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রতিবেদন জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্র থেকে এর সপক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে বরং একটি গভীর রাজনৈতিক কল্পকাহিনি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জটিল সমীকরণে এ ধরনের প্রতিবেদন অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও গোয়েন্দা সংস্থার কৌশলগত প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৪১

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

আপডেট : ০৮:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন কার্যক্রম নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের প্রকাশ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র–পরবর্তী ইরানের সম্ভাব্য শীর্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র সমালোচনা। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি দল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে দাবি করা হলেও, এর ভেতরের বিভিন্ন তথ্য এবং কৌশলগত অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় যে, বুদাপেস্টে গোপন বৈঠক, মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তেহরানে বোমা হামলার শিকার আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে নাটকীয় উদ্ধার অভিযানের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁকে ইরানের ভেতরেই মোসাদের একটি গোপন সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কৌশল এবং বাস্তব কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করলে এই বর্ণনাগুলো কাল্পনিক গল্পের মতো শোনায়। পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত গোপন অভিযানগুলো অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়ায়ী হয়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে রিক্রুটমেন্ট থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন নাটকীয়তা এবং নাটকীয় পলায়নের এমন সুবিন্যস্ত চিত্রপটের কোনো বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাছাড়া, ইরানের জটিল ক্ষমতার কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে যাঁদের নূন্যতম ধারণা আছে, তাঁরা জানেন যে দেশটির মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি কখনোই প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে না। প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে। ইসরায়েল যদি সত্যিই ইরানের উচ্চপর্যায়ে কোনো ‘অ্যাসেট’ বা গুপ্তচর তৈরি করতে চাইত, তবে তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কিংবা আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা। তা ছাড়া, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত পরিচিত এবং চরম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে এমন একটি সংবেদনশীল পদের জন্য নির্বাচন করার বিষয়টি গোয়েন্দা কৌশলগতভাবে চরম বোকামি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এলিট ৮২০০ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হানান গেফেনসহ অনেক গোয়েন্দা পেশাদার এই খবরের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, মোসাদের বর্তমান কোনো প্রধান ব্যক্তিগতভাবে একজন লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এমন ঝুঁকি কোনো পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থা নেয় না। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির মতো একটি মিত্র দেশের সরকারের মাধ্যমে জলবায়ু সম্মেলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করার দাবিটি আরও বেশি অবাস্তব ও হাস্যকর। হাঙ্গেরির বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য অন্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বা প্রকাশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক অতীত এবং তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এই প্রতিবেদনের সত্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। নিজের আট বছরের শাসনামলে তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট অস্বীকার করেছিলেন, ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে জোরদার করেছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বে তিনি একজন উগ্র ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি গোয়েন্দারা যদি শাসনব্যবস্থার পতনের পর ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের জন্য কাউকে খুঁজতে থাকেন, তবে সেই তালিকার শেষ নামটিও আহমাদিনেজাদ হওয়ার কথা নয়। নিজের দেশেই একাধিকবার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত এবং সংস্কারপন্থী ও উগ্রপন্থী—উভয় পক্ষের কাছেই অবিশ্বস্ত এক নেতার পেছনে এত বড় বিনিয়োগ করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

ইতালি সরকারের সাবেক কূটনীতিক এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্কো কার্নেলোস মিডলইস্ট আই-তে প্রকাশিত তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগও এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, শক্তিশালী কোনো বিকল্প ছাড়া খামেনি সরকারের পতন ঘটালে ক্ষমতা পশ্চিমামুখী কারও হাতে না গিয়ে বরং রিভোল্যুশনারি গার্ডসের হাতেই চলে যেতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। অন্যদিকে, আহমাদিনেজাদের দপ্তর থেকে এই প্রতিবেদনটিকে ‘হলিউড ধাঁচের গল্প’ ও মনগড়া বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, এই প্রতিবেদনটি বেনামি মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এতে কোনো verifiable বা যাচাইযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রতিবেদন জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হতে পারে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্র থেকে এর সপক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে বরং একটি গভীর রাজনৈতিক কল্পকাহিনি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জটিল সমীকরণে এ ধরনের প্রতিবেদন অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও গোয়েন্দা সংস্থার কৌশলগত প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।