Hi

০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় সর্বস্তরের ঐক্যের ডাক আনু মুহম্মদের

ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের ঐতিহাসিক সংগ্রামের দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং আকাঙ্ক্ষাসমূহ বাস্তবায়নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত রোববার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘দ্রোহযাত্রা’র দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও প্রতিবাদী সমাবেশে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক আনু মুহম্মদ এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটলেও জনগণের প্রকৃত অধিকার ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রকাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শ্রমজীবী মানুষের সমন্বয়ে যে ঐতিহাসিক প্রতিবাদী মিছিল বা ‘দ্রোহযাত্রা’ শুরু হয়েছিল, তা তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। কারফিউ ও কঠোর দমননীতি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের রাজপথে নেমে আসার সেই সাহসী প্রতিরোধ প্রমাণ করেছিল যে, সংঘবদ্ধ জনতার শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচারই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। রবিবারের সমাবেশে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের অমূল্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

সমাবেশ থেকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা নতুন দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিসহ অন্যান্য অসম চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করা, এবং সব ধরনের জাতিগত, ধর্মীয় ও লিঙ্গীয় বৈষম্য কিংবা নিপীড়ন চিরতরে বন্ধ করা। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুনিশ্চিতকরণ, শ্রমজীবীদের জন্য বাস্তবসম্মত জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, পরিবেশ ও প্রকৃতিবিনাশী তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি র‍্যালির মাধ্যমে এই দ্রোহযাত্রার সূচনা হয়, যা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে একটি বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি এবং প্রতিবাদী নাটিকা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অভ্যুত্থানের পর নানা মহলে পুনরায় জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা ও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে সবসময় সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

জনপ্রিয়

সুন্দর ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনে মুমিনের ৯টি অপরিহার্য অভ্যাস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় সর্বস্তরের ঐক্যের ডাক আনু মুহম্মদের

আপডেট : ০৪:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের ঐতিহাসিক সংগ্রামের দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং আকাঙ্ক্ষাসমূহ বাস্তবায়নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত রোববার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘দ্রোহযাত্রা’র দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও প্রতিবাদী সমাবেশে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক আনু মুহম্মদ এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটলেও জনগণের প্রকৃত অধিকার ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রকাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শ্রমজীবী মানুষের সমন্বয়ে যে ঐতিহাসিক প্রতিবাদী মিছিল বা ‘দ্রোহযাত্রা’ শুরু হয়েছিল, তা তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। কারফিউ ও কঠোর দমননীতি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের রাজপথে নেমে আসার সেই সাহসী প্রতিরোধ প্রমাণ করেছিল যে, সংঘবদ্ধ জনতার শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচারই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। রবিবারের সমাবেশে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের অমূল্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

সমাবেশ থেকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা নতুন দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিসহ অন্যান্য অসম চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করা, এবং সব ধরনের জাতিগত, ধর্মীয় ও লিঙ্গীয় বৈষম্য কিংবা নিপীড়ন চিরতরে বন্ধ করা। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুনিশ্চিতকরণ, শ্রমজীবীদের জন্য বাস্তবসম্মত জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, পরিবেশ ও প্রকৃতিবিনাশী তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি র‍্যালির মাধ্যমে এই দ্রোহযাত্রার সূচনা হয়, যা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে একটি বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি এবং প্রতিবাদী নাটিকা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অভ্যুত্থানের পর নানা মহলে পুনরায় জনস্বার্থবিরোধী তৎপরতা ও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে সবসময় সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।