সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা শ্রেয়া কালরা জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ লড়াই, নানামুখী নাটকীয়তা এবং একাধিক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তিনি এই রিয়েলিটি শোর বিজয়ী ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন। ট্রফির পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন নগদ এক কোটি টাকা। নিজের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা এবং স্পষ্টভাষী আচরণের কারণে প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই তিনি দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম গ্রহণ করেন শ্রেয়া কালরা। পেশাগত জীবনে বিনোদন জগতে আসার আগে তিনি এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। প্রথমদিকে সংক্ষেপে টিকটকে নৃত্য ও নানাবিধ বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তীতে ভারতে টিকটক অ্যাপটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তিনি থমকে যাননি; বরং ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে নতুন করে নিজের উপস্থিতি দৃঢ় করেন। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং নাচের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হন।
ডিজিটাল মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরির পর শ্রেয়া পদার্পণ করেন টেলিভিশন ও রিয়েলিটি শোর দুনিয়ায়। ২০২০ সালে জনপ্রিয় শো ‘এমটিভি রোডিজ রেভোল্যুশন’-এ ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি নজর কাড়েন। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মিনিসিরিজে অভিনয় করতে দেখা যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রথম আসরের বিজয়ী কৌতুকশিল্পী মুনাওয়ার ফারুকির সঙ্গে যৌথভাবে ‘দ্য সোসাইটি’-এর দ্বিতীয় মৌসুম সঞ্চালনা করেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত মতামত ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরতে তিনি ‘ডোন্ট স্পিল টু মাচ’ শিরোনামে একটি নিজস্ব পডকাস্টও পরিচালনা করে আসছেন।
‘লক আপ ২’ প্রাঙ্গণে শ্রেয়ার যাত্রা মোটেও সুগম ছিল না। শুরু থেকেই তিনি নিজস্ব সুনির্দিষ্ট কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। অন্যান্য প্রতিযোগীদের ধারাবাহিক আক্রমণ ও সমালোচনার মুখেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন টাস্কে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি ঘরের চরম সংঘাতময় পরিস্থিতিতেও তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি। তাঁর এই স্পষ্টবাদী মনোভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়।
পুরো মৌসুম জুড়েই শ্রেয়াকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিযোগী শিবাঙ্গী জোশী, আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী, যোগেশ রাওয়াত ও হর্ষদ চোপড়ার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। বিশেষ করে এক সহ-প্রতিযোগীর ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এবং ঘরের অধিকাংশ সদস্য তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ প্রতিযোগী শিলপা শিন্দের সঙ্গেও তাঁর বড় ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তবে এসব প্রতিকূলতা ও বিতর্ককে নিজের ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি ফাইনালে জায়গা করে নেন।
দর্শকদের একটি বড় অংশ পুরো মৌসুম জুড়ে শ্রেয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য ও দৃঢ় উপস্থিতির কারণে কৌতুক করে এই আসরটিকে ‘দ্য শ্রেয়া কালরা শো’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই অদম্য জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় গ্র্যান্ড ফাইনালে। বিপুল জনসমর্থন ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে শ্রেয়া কালরা ‘লক আপ ২’-এর ট্রফি ও এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘরে তোলেন। এই জয় তাঁর শোবিজ ক্যারিয়ারে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকেরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি 

























